উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ হঠাৎ করেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানিতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ সরকার (Bangladesh Stops Hilsa Import)। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সে দেশের মৎস্য দপ্তরের তরফে ১০৩টি ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি (NOC) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে মাথায় হাত পড়েছে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের। বড়সড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তবে ঠিক কী কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো, সে বিষয়ে তারেক রহমান সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ মৎস্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্য থেকে মোট ১,৭৪০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত শুধুমাত্র বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৫৪০ টন ইলিশ ভারতে থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, অনুমোদিত কোটার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই আমদানি করা হয়েছিল। এরপরও হঠাৎ করে বাকি আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বাণিজ্য মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ভারত থেকে যে রূপোলি শস্য আমদানি করা হচ্ছিল, তার একটি বড় অংশ পদ্মার ইলিশ বলে বাজারে চালিয়ে দিচ্ছিল অসাধু চক্র। ভারতে প্রতি কেজি ইলিশের দাম যেখানে প্রায় ৫০০ টাকা পড়ছে, সেগুলিকেই বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে চড়া দামে, এমনকি ৩, হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এছাড়া অতিরিক্ত মুনাফার লোভে আমদানির নথিতে দাম বেশি দেখানোর কারচুপির অভিযোগও উঠছে।
অন্যদিকে, আরও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে দেশীয় জেলেদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের আশঙ্কা, ভারত থেকে নির্বিচারে বেশি পরিমাণে ইলিশ এলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে দেশীয় ইলিশ ধরার প্রতি মৎস্যজীবীদের আগ্রহ ও জোগান ব্যাহত হতে পারে। উল্লেখ্য, ভারত থেকে যে ইলিশ পাঠানো হচ্ছিল, তার বেশিরভাগটাই গুজরাটের সামুদ্রিক ইলিশ, যা ডিমে ভরতি থাকে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো অঞ্চলে এই ডিমভর্তি ইলিশের চাহিদা বেশ ভালোই রয়েছে। তবে হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞার জেরে দুই দেশের বাণিজ্য মহলেই এখন তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

