পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে বাংলাদেশিদের অনুপ্রেবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজ্যে পালাবদলের পর ভিনদেশিদের পুশ ইনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বিরুদ্ধে এবার আসরে নামছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মৌলবাদী রাজনৈতিক শক্তি জামাত। সঙ্গী এনসিপি-সহ একাধিক বিরোধী দল। পদ্মপাড়ে বিরোধী দলগুলি জানিয়েছে, বাংলাদেশে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১২ জুন দেশের সীমান্তবর্তী সবকটি জেলায় সীমান্তের চেকপোস্টগুলির কাছে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে জামাত, এনসিপি-সহ ১১ দলের জোট। একই বিষয়কে সামনে রেখে ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগের শহিদ ওসমান হাদি চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
বুধবার দুপুরে ঢাকার মগবাজারে জামাতে ইসলামির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিরোধী জোটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারে এবং ভারতের সীমান্ত নীতির সমালোচনা করা হয়। জামাত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ইতিমধ্যে ২৬ জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে জোরপূর্বক অনেক লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিজিবির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে না তুললে ভারত এত দিনে তাদের দেশের অনেক নাগরিককে এ দেশে পুশ ইন করত। ইতিমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় পুশ ইন হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যর অভিযোগ এনেছে। জামাত নেতা বলেন, বিএনপি সরকারের ১০০ দিনে বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ২৪ জন। বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ৮৩ জনকে আটক করে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারত বরাবর দাবি করে আসছে যে তারা কোনও ‘পুশ-ইন’ (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) কার্যক্রম চালাচ্ছে না। কেবল প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া ও দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য— যথাযথ যাচাই-বাছাই ও বিদ্যমান নিয়মকানুন মেনেই কেবল অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
