উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ অস্ট্রেলিয়ার দুর্গ ভেদ করে অজিভূমে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল (Bangladesh historic Check win Australia)। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচেই অসাধারণ জয় ছিনিয়ে নিয়ে নজির গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শুধু জয় হাসিল করাই নয়, বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুততম দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব অর্জন করল ‘টাইগার’রা। একইসঙ্গে এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের দুর্লভ ক্লাবে নাম লেখাল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সবথেকে কম টেস্ট খেলে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। ইংরেজরা তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচেই ১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল। আর সেই রেকর্ড তালিকার ঠিক পরেই অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের মাত্র তৃতীয় টেস্টেই জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। এর আগে ১৯১১ সালে প্রোটিয়ারাও তাদের তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল। অর্থাৎ টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে দ্রুততম জয়ের নিরিখে ভারত এবং পাকিস্তানকে বহু পেছনে ফেলে দিল টাইগাররা।
এই তালিকায় এর পরের স্থানগুলিতে রয়েছে যথাক্রমে:
- চতুর্থ স্থান: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (পঞ্চম টেস্টে জয়, ১৯৩১ সাল)
- পঞ্চম স্থান (যুগ্ম): পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ড (সপ্তম টেস্টে জয়; যথাক্রমে ১৯৭৭ ও ১৯৮৫ সাল)
- সপ্তম স্থান: ভারত (১২তম টেস্টে প্রথম জয়, ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বর)
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবোয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একাধিক টেস্ট খেললেও এখনও পর্যন্ত কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারত ছাড়া এশিয়ার আর কোনো দেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিততে পারেনি। এর আগে পাকিস্তান শেষবার অজিভূমে টেস্ট জিতেছিল ১৯৯৫ সালে। ভারত এখনও পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মোট ১০টি টেস্ট জিতেছে, যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে। সেই তালিকায় এবার অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যোগ করল বাংলাদেশ। অজিদের মাটিতে টাইগারদের এই ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় সাফল্য বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন রূপকথা লিখে দিল।
উল্লেখ্য, ম্যাচের চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। সহজ এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় শূন্য রানে ওপেনার তানজিদ হাসান সাজঘরে ফিরলেও, অন্য ওপেনার শাদমান ইসলাম (২৫) এবং অভিজ্ঞ মমিনুল হক (৩০*) ঠান্ডা মাথায় দলের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে চতুর্থ দিনে অজিদের হয়ে ক্যামেরন গ্রিন লড়াকু ১০৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও, মেহেদি হাসান মিরাজ একাই ধস নামান। ৬৬ রান খরচ করে তিনি নেন ৫ উইকেট। এর সুবাদেই ২০১৯ সালে কুলদীপ যাদবের পর প্রথম কোনো সফরকারী দলের স্পিনার হিসেবে অজিভূমে টেস্টের এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন মিরাজ।

