বালুরঘাট: একই জমিতে শিলান্যাস হয়েছে দুইবার। কিন্তু হিডকোর কাছ থেকে জমি পাওয়ার পর ১৩টা বছর কেটে গেলেও বালুরঘাট পুরসভা এখনও রাজারহাট- নিউটাউনে বালুরঘাট ভবন নির্মাণ করে উঠতে পারেনি। যার জেরে হিডকো পুরসভার কাছ থেকে বালুরঘাট ভবন নির্মাণের জন্য দেওয়া পাঁচ কাঠা জমি ফেরত চেয়ে পাঠাল। ইতিমধ্যেই ওই জমি ফেরত চেয়ে, বালুরঘাট পুরসভাকে তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাতিল করার জন্য চিঠি দিয়েছে হিডকো। হিডকোর চিঠি পুরসভায় পৌঁছানোর পর থেকেই দু’বার শিলান্যাস হওয়া ওই জমি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের দাবি, ওই জমি ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে যাতে ওই জমিতেই ভবন নির্মাণ করা যায়, সেই বিষয়ে তিনি হিডকোকে চিঠি দিয়েছেন। যদিও বিরোধীরা, বিশেষ করে বাম শিবির অশোকের আশ্বাসে ভুলতে নারাজ।
বালুরঘাটের বাসিন্দাদের বিভিন্ন কাজে কলকাতায় যেতে হয়। বাসিন্দাদের কমখরচে থাকার ব্যবস্থা করতে পুরসভায় বামফ্রন্টের বোর্ড থাকাকালীন সল্টলেকে বালুরঘাট ভবন তৈরি করা হয়েছিল। ওই ভবন এতটাই জনপ্রিয় যে প্রায় সারবছরই ভবনের প্রায় সমস্ত ঘরেরই বুকিং থাকে। এই কারণে ২০০৮-এ বামফ্রন্ট পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভা বোর্ড রাজারহাট-নিউটাউনে দ্বিতীয় বালুরঘাট ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করে। আবেদনের ভিত্তিতে পুরসভা হিডকোর কাছ থেকে ১০ কাঠা জমিও পেয়েছিল। যদিও পরে হিডকো ৫ কাঠা জমি ফেরত নিয়ে নিয়েছিল। ২০১২ সালে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বিশ্বনাথ চৌধুরী, তৎকালীন পুরসভার চেয়ারপার্সন সুচেতা বিশ্বাস, তৎকালীন সাংসদ প্রশান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে ওই জমিতে ভবন নির্মাণের শিলান্যাসও করা হয়েছিল। তারপরেই পুরবোর্ড বামেদের হাতছাড়া হয়। তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের আমলে ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর দেওয়ার কাজ করা হয়। ২০২২ সালে বালুরঘাট পুরসভা নির্বাচনে ঠিক আগে তৎকালীন প্রশাসক শেখর দাশগুপ্তর উদ্যোগে ভবন নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ না করেই একই জমিতে ফের শিলান্যাস করা হয়। রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র, তৎকালীন জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় সহ একগুচ্ছ বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে ওই জমিতে ভবন নির্মাণের শিলান্যাস করা হয়েছিল।
আরএসপির জেলা সম্পাদিকা সুচেতা ১৮ বছর ধরে পুরসভার চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জমি হাতছাড়া হওয়ায় শাসকদল পরিচালিত পুরসভার দিকে তোপ দেগেছেন প্রাক্তন চেয়ারপার্সন। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্টে তিল তিল করে পুরসভার বাসিন্দাদের স্বপ্ন পূরণ করতে নানা সম্পত্তি করেছিলাম। বর্তমানে ওই সম্পত্তিগুলি দেখভালের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। ২০১২ সালে হিডকোর কাছে পাওয়া ওই জমিতে শিলান্যাস হয়েছিল। কিন্তু তারপরই আমাদের বোর্ড চলে যাওয়ায় আমরা ওই জমিতে বালুরঘাট ভবন নির্মাণের সুযোগ পাইনি।’ তিনি যোগ করেন, ‘শুধুমাত্র তৃণমূলের ব্যর্থতার জন্য ওই জমি হাতছাড়া হল। এত বছর ধরে পুরবোর্ড চালানোর পরেও দ্বিতীয় বালুরঘাট ভবন নির্মাণে ব্যর্থ হয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড।’
অভিযোগ উড়িয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ‘বামেদের ব্যর্থতার কারণেই দশ কাঠা জমির মধ্যে ৫ কাঠা জমি আগে ফেরত গিয়েছে। বাকি জমিতে ভবন নির্মাণ করতে হলে যে শর্তগুলো পালন করতে হত সেটাও বামেদের সময়েই তৈরি। ওই শর্ত মেনে ওই জমিতে ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছিল না। তাই আমরা নতুন করে ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। ওই জমি যাতে ফেরত না যায়, তার জন্য পুরসভা উদ্যোগী হয়েছে।’
