সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: এক বিচারাধীন বন্দি সামনে গীতা খুলে শ্লোক ব্যাখ্যা করছেন। আর তা মন দিয়ে বসে শুনছে জনা পঞ্চাশেক অন্য মামলার বন্দি আবাসিকরা। অপরাধ, বিচার আর সাজার গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে মানসিক পরিবর্তন ও আত্মশুদ্ধির পথ খুঁজে নিতে আবাসিকদের দ্বারাই নতুন এই উদ্যোগ শুরু হল বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে (Balurghat Correctional Residence)।
গত ২১ জুন, রবিবার সকালে প্রথম গীতা পাঠের আসর বসে সংশোধনাগারে। সেখানকার একাংশ আবাসিককে দেখা যায় শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতার শ্লোক পাঠ, তার ব্যাখ্যা ও চর্চায় মন দিতে। আবাসিকদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে স্বাভাবিকভাবেই সম্মতি মিলেছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের। সংশোধনাগারের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। গীতা পাঠের মাধ্যমে আত্মসমালোচনা, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং মানসিক স্থিতি অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বর্তমানে মোট ৮০২ জন আবাসিক রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাকিরা ভারতীয়। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে বসবাস করলেও কয়েকজন ধর্মপ্রাণ আবাসিকের আবেদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি গীতা পাঠের আয়োজন শুরু হয়েছে। এই সংশোধনাগারে দুর্গাপুজো, সরস্বতীপুজো সহ বিভিন্ন ধার্মিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। প্রতি শুক্রবার মৌলবি দ্বারা নমাজ পাঠের আসর চলে। তবে কয়েকজন আবাসিক গীতা পাঠের আসরের আবেদন জানিয়েছিল। মাত্র এক সপ্তাহ আগে সংশোধনাগারের নতুন সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রাজেশকুমার মণ্ডল। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি আবাসিকদের এই আবেদনে সাড়া দেন।
রবিবার প্রথম গীতা পাঠের আসরে প্রায় ৫০ জন আবাসিক অংশ নেয়। সংশোধনাগার সূত্রে খবর, চার-পাঁচজন আবাসিকের বিশেষ উদ্যোগেই এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। গীতা পাঠ ও আলোচনা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন ২৫ বছর বয়সি এক বিচারাধীন আবাসিক, যিনি একটি পকসো মামলায় বর্তমানে জেলে রয়েছেন। অংশগ্রহণকারী অন্য আবাসিকদের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন মামলার বিচারাধীন বন্দি ও সাজাপ্রাপ্তরা।
বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপার রাজেশকুমার মণ্ডল বলেন, ‘সংশোধনাগার শুধু শাস্তি দেওয়ার জায়গা নয়, মানুষের মানসিক ও নৈতিক উন্নয়নেরও ক্ষেত্র। কয়েকজন আবাসিক গীতা পাঠের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। প্রতি রবিবার এই আসর বসবে। আবাসিকদের মধ্যে ভালো সাড়া মিলছে।’

