বালুরঘাট: সরকারি খাতে জমা পড়ার কথা ২৫,০০০ টাকা। অথচ জমা করা হয়েছে ২,৫০০ টাকা। এভাবেই শেষের সংখ্যা কমিয়ে এবং চালান বিকৃত করে দিনের পর দিন সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ‘কারবার’ চলছে বালুরঘাট ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে। দপ্তরের একটি সূত্রে খবর, গত চার বছরে রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ কোটি কোটি টাকা। এমন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত দপ্তরের আধিকারিক থেকে সাধারণ কর্মীরা। সম্প্রতি রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের বিভাগীয় অডিটে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নজরে এসেছে। ঘটনায় নবান্ন থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে আগামী ২১ জুলাই বালুরঘাটে তদন্তে আসছে অর্থ দপ্তরের স্পেশাল অডিটের একটি প্রতিনিধিদল। যেভাবে সরকারি অনলাইন প্রক্রিয়াকেই হাতিয়ার করে দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, তাতে ওই স্পেশাল অডিটের পরে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে অনেক আধিকারিক, কর্মীকে। যার জেরে এখন আতঙ্কের আবহ বালুরঘাট ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে।
জমির মিউটেশন, ইটভাটা তৈরির ছাড়পত্রের পাশাপাশি অবৈধ পুকুর খনন বা অবৈধভাবে মাটি পাচারের ক্ষেত্রে জরিমানা, নানা কাজের অর্থ রাজস্ব আকারে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের মাধ্যমে জমা পড়ে রাজ্যের অর্থ দপ্তরে। ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারের কোষাগারে এই টাকা জমা পড়ার ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি প্রথা চালু ছিল। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করে তুলতে সরকারি তরফে অনলাইন ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়। অর্থাৎ অর্থ দপ্তরের পোর্টালে গিয়ে কর অথবা জরিমানার টাকা জমা করে চালান কাটতে হয়। এরপর ওই ম্যানুয়াল ফাইল এবং সরকারি পোর্টালে জমা পড়া টাকার অঙ্ক মিলিয়ে দেখেই দপ্তরের আধিকারিকদের সেখানে সই করার কথা। জানা গিয়েছে, বালুরঘাট ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকদের সই থাকা কাগজ মেলাতে গিয়েই অভ্যন্তরীণ অডিট টিমের কাছে ত্রুটি ধরা পড়ে। কম টাকার রাজস্ব পোর্টালে জমা করেও, চালানে শূন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বুঝতে পারে অডিট টিম। অর্থাৎ, যে কাজের ক্ষেত্রে যত পরিমাণ রাজস্ব সরকারের ঘরে জমা পড়ার কথা ছিল, তা বাস্তবে হয়নি। এমন ত্রুটি ধরা পড়েছে বিস্তর। অভ্যন্তরীণ অডিট টিমের এমন রিপোর্টের জেরে অনলাইন প্রক্রিয়া শুরুর পরবর্তী চার বছর এবং ম্যানুয়াল কাজ চলার শেষ ছয় মাস তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। যে কারণে বালুরঘাটে আসছে অর্থ দপ্তরের বিশেষ দল।
এই সংক্রান্ত প্রশ্নে বালুরঘাটের ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিক রণেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, ‘কীভাবে কী হয়েছে, বুঝতে পারছি না।’ মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘২১ জুলাই স্পেশাল অডিট টিম তদন্ত করতে আসছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই আগামীতে এর বিরুদ্ধে আমাদের কী পদক্ষেপ হবে, তা জানানো হবে।’
