সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: দেড় মাস আগের কথা। ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল হেলিপ্যাড। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারাও বালুরঘাটে (Balurghat) প্রচারে এলে তৃণমূলের অনুমতি নিয়ে ওই হেলিপ্যাড ব্যবহার করেন। তারপর গোটাটাই শুধু ভোগান্তির কাহিনী। মাঠ ঠিক করার নামে শুধু হেলিপ্যাডের ইট তুলে বালুরঘাট ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের মাঠে এক জায়গায় ডাঁই করে রাখা হয়েছে। এর ফলে বালুরঘাটের একমাত্র ফুটবল মাঠের মাঝখানে ৪ ফুটের গর্ত হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে বৃষ্টির জেরে ওই গর্ত জল জমে টইটুম্বুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে মাঠের মাঝখানে যেন সুইমিং পুল। মাঠের এই দুর্দশায় ফুটবল প্র্যাকটিস বন্ধ বালুরঘাটে। এদিকে, জুন মাস থেকে ওই মাঠেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুপার ডিভিশন, ফার্স্ট ডিভিশন ফুটবল খেলাগুলি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু মে মাসের মাঝামাঝি সময়েও মাঠের এমন দশায় চিন্তায় ক্রীড়া সংগঠকরা। পাশাপাশি ওই মাঠেই সারাবছর একটি ফুটবল কোচিং সেন্টার চলে। সেই সেন্টারও কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। বালুরঘাট ফুটবল অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকেও লিগে দল রয়েছে। সেই দলও প্র্যাকটিস করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বিরক্ত ফুটবল অ্যাকাডেমির সদস্য থেকে অভিভাবক সকলেই।
এদিকে, পুরসভা থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতৃত্ব, সকলকেই মাঠটি ঠিক করে দেওয়ার আবেদন জানানোর পরও সমস্যার সমাধান হয়নি বলছেন ওই অ্যাকাডেমির কোচ শুভজিৎ দাস।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস শহর সভাপতি সুভাষ চাকি বলেন, ‘ওই মাঠের বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। আমরা যে ঠিকাদারি সংস্থাকে এই কাজের বরাত দিয়েছিলাম, তাকে দ্রুত মাঠ সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে।’
বালুরঘাট ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের মাঠে বালুরঘাট ফুটবল অ্যাকাডেমি নামে একটি কোচিং সেন্টার চলে। গত ৩১ মার্চ ৭ বছর পর বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হয়ে প্রচারে টাউন ক্লাবে এসেছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই ক্লাবের সঙ্গেই লাগানো ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন মাঠের মাঝবরাবর হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বই একটি ঠিকাদারি সংস্থাকে বরাত দিয়ে হেলিপ্যাড তৈরি করিয়েছিল। অভিষেক সভা করে চলে যাওয়ার পরেও হেলিপ্যাডটি অক্ষত রাখা হয়েছিল। যদি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনি প্রচারে আসতে চান, সেই বিষয়টিকে ধরে নিয়েই হেলিপ্যাড নষ্ট করা হয়নি। তবে তিনি না এলেও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা বালুরঘাটে প্রচারে এলে তৃণমূলের অনুমতি নিয়েই ওই হেলিপ্যাডটিই ব্যবহার করেছিলেন। কথা ছিল গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর হেলিপ্যাডটি তুলে দিয়ে মাঠটি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে তৃণমূল।
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও ওই ফুটবল অ্যাকাডেমির তরফে তৃণমূল নেতাদের শরণাপন্ন হওয়ায় সমস্যা আরও বেড়ে গিয়েছে। ঠিকাদারি সংস্থা হেলিপ্যাড থেকে টাউন ক্লাব মাঠের সভাস্থল পর্যন্ত ইট পেতে যে রাস্তা তৈরি করেছিল, সেই রাস্তা খুঁড়ে এবং মাঠের হেলিপ্যাডটি খুঁড়ে সেখানকার ইটগুলি তুলে মাঠের এক কোণে ডাঁই করে রাখা হয়েছে। তাতেও মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছিটিয়ে থাকছে ইটের টুকরো। এদিকে, হেলিপ্যাডটি তুলে ফেলায় সেখানে প্রায় ৪ ফুটের গর্ত হয়ে রয়েছে। এতে থমকে ফুটবলচর্চা। এক অভিভাবক গৌতম সাহা বলেন, ‘ওই অ্যাকাডেমিতে আমার ছেলে ফুটবল প্র্যাকটিস করে। কিন্তু মাঠের এমন অবস্থায় এবছর তাদের প্র্যাকটিসে প্রবল সমস্যা হচ্ছে।’ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক সুজয় ঘোষ বলেন, ‘বালুরঘাটের একমাত্র ওই মাঠেই আমাদের ফুটবল লিগগুলি চলে। মাঠের এমন অবস্থায় আমরাও চিন্তায় রয়েছি। আজ আমাদের পরিচালন কমিটির সভা রয়েছে। এই সভাতেই আমরা ওই মাঠের সংস্কার নিয়ে কী পদক্ষেপ করা যায়, তার সিদ্ধান্ত নেব।’
