সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: কুমোরটুলি থেকে মূর্তি গায়েব! এমন অবাক করা কাণ্ড ঘটেছে বালুরঘাটে (Balurghat)। যাকে কেন্দ্র করে বুধবার চরম উত্তেজনা ছড়ায় শহরের ঐতিহ্যবাহী রঘুনাথ মন্দিরপাড়া এলাকায়। মূর্তি সরিয়েছেন মন্দির কমিটির সম্পাদকই, খবর চাউর হতেই মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলন করা স্থানীয় বাসিন্দারা বালুরঘাট থানায় মূর্তি চুরির লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন। শুধু তাই নয়, গত বছরের যে মূর্তি এবার বিসর্জনের কথা ছিল, তা নিয়েই এদিন বিকেলে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন আন্দোলনকারীরা। অন্যত্র পালটা মূর্তি তৈরির বরাতও দিয়েছেন তাঁরা। মন্দির কমিটি মেলা বয়কট করায়, ওই মেলার আয়োজনও করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের একাধিক পদক্ষেপে স্পষ্ট, পুজো ও মেলার রাশ নিজেদের হাতেই রাখছেন স্থানীয়রা। তবে কুমোরটুলি থেকে সরানো মূর্তি নিয়ম মেনে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান মন্দির কমিটির সম্পাদক ভোলানাথ সিং। সবমিলিয়ে রামনবমীর আগে বালুরঘাটের দুশো বছরের রঘুনাথ মন্দিরের দখলদারি নিয়ে বিবাদ ক্রমশই নতুন আকার নিচ্ছে।
বালুরঘাট শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে প্রায় ২০০ বছর পুরোনো রঘুনাথ মন্দির (Raghunath Temple)। শুক্রবার রামনবমী (Ram Navami) হলেও বৃহস্পতিবার রাতেই এখানে রঘুনাথজির পুজো অনুষ্ঠিত হবে প্রথা মেনে। রামনবমী উপলক্ষ্যে প্রতিবছর এই মন্দিরে পুজোর পাশাপাশি বিশাল মেলার আয়োজন হয়। লক্ষাধিক ভক্ত পাশে বয়ে চলা আত্রেয়ী নদীতে স্নান করে মন্দিরে পুজো দেন। এবারও তা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু মন্দিরের বেহাল দশা এবং হিসেবের অস্বচ্ছতার অভিযোগ নিয়ে গ্রামবাসী ও মন্দির কমিটির মধ্যে গত তিন বছর ধরে চলা বিরোধ এবছর নতুন আকার নিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল বাধছে। সম্প্রতি মন্দির কমিটির সম্পাদক সহ অন্যদের লাঠি ঝাঁটা হাতে তাড়া করে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মহিলাদের একাংশের বিরুদ্ধে। এরপরেই বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি মেলা ও পুজোতে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দেয় মন্দির কমিটি। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি তুলেছে কমিটি। মন্দির কমিটির সম্পাদক ভোলানাথ বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মতো এবারও প্রবল বিশৃঙ্খলা করে চলেছে একদল দুষ্কৃতী। স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসীকে তারা সন্ত্রস্ত করে রেখেছে। কুমোরটুলি থেকে মূর্তি হাইজ্যাক করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ঠাকুরের মূর্তি নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলতে দেব না বলেই মূর্তি সরিয়ে রেখেছি। ঐতিহ্য মেনেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমাদের বিরুদ্ধে অপমানের বিহিত না হওয়া পর্যন্ত পুজো হবে, কিন্তু মেলার দায়িত্ব আমরা নেব না।’ বিক্ষোভকারীদের পক্ষে টগরী মহন্ত বলেন, ‘এত বছর ধরে দুর্নীতি হয়েছে। টাকা শুধু বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে, মন্দিরের কোনও উন্নতি হয়নি। এরই প্রতিবাদ এবার স্থানীয়রা করেছি। আর এতেই এই পুজো যাতে বন্ধ হয়, তার জন্য যাবতীয় চক্রান্ত শুরু হয়েছে। মূর্তি সরিয়ে ফেলা, পুরোহিত থেকে ডেকোরেটার সবাইকে আসতে না করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা এই পুজোয় কোনও প্রভাব ফেলতে দেব না। তাই নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে সমস্ত কাজ করছি। যথারীতি মেলাও হবে।’
