পঙ্কজ মহন্ত, বালুরঘাট: আদালতের নির্দেশে রাজ্যের কলেজগুলিতে ইউনিয়ন রুম বন্ধ রয়েছে, হচ্ছে না নির্বাচনও। কিন্তু তারপরেও দিব্যি ‘ইউনিয়ন ফান্ড’ জ্বলজ্বল করছে কলেজে ভর্তির নোটিশে। ঘটনাটি বালুরঘাট কলেজের, যেখানে তৃতীয় ও পঞ্চম সিমেস্টারে, ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ সব ক্ষেত্রেই ৪০০ টাকা ইউনিয়ন ফান্ড বরাদ্দ হয়েছে। আর এই ঘটনাটি নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ এটিকে পড়ুয়াদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার জন্য বরাদ্দ অর্থ বলে সাফাই গেয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার বেআইনি ফি নেওয়ার অভিযোগ তুলে কলেজ চত্ত্বরে সোচ্চার হয়েছেন একদল ছাত্রছাত্রী। যা নিয়ে এদিন উত্তেজনা ছড়ায় কলেজ চত্ত্বরে।
ঘটনা প্রসঙ্গে বালুরঘাট কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ কুণ্ডু বলেন, ‘ইউনিয়ন ফান্ড নামটা পরিবর্তন হয়নি। আগে ওই টাকা ইউনিয়ন থেকে খরচ করা হত। এখন সেটা আমরা খরচ করছি। সেই টাকা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এক্সিবিশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলা চালানো হয়। সেন্ট্রাল অ্যাডমিশন পোর্টালে ফি-এর কাঠামো জমা হয়েছে। আপত্তি থাকলে সেখান থেকেই চলে আসতো। এই টাকা কোনওভাবেই ইউনিয়নের কাছে যায় না।’
এদিন কলেজের আই কার্ড গলায় ঝুলিয়ে একদল পড়ুয়া গণস্বাক্ষর করে ইউনিয়ন ফান্ডের টাকা না নেওয়ার দাবি জানাতে অধ্যক্ষের কাছে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ জমা দিতে আসা পড়ুয়াদের দাবি, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা তাঁদের অভিযোগ পত্র ছিড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তৃতীয় সিমেস্টারের ছাত্রী অঙ্কিতা মন্ডল বলেন, ‘কলেজে নির্বাচিত ইউনিয়ন নেই। তবু ইউনিয়ন ফি নেওয়া হচ্ছে। তাই অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের ছেলেরা আমাদের চিঠি থুতু দিয়ে ডাস্টবিনে ফেলেছে।’
অপরদিকে বালুরঘাট শহর টিএমসিপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক সুরোজ সাহার দাবি, ‘এসএফআই-এর কোনও সংগঠন কলেজে নেই। কিন্তু তারা কলেজে এসে অশান্তি সৃষ্টি করছিল। একদল ছাত্র তাদের রুখে দিয়েছে। তারা জোরপূর্বক মেয়েদের নম্বর সংগ্রহ করছিল। যা কোনও অসৎ মাধ্যমে ব্যবহার করার আশঙ্কা ছিল। ইউনিয়ন ফি না নেওয়ার বিষয়টি কলেজের পরিচালন কমিটি বিবেচনা করবে।’
