সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট: ভরা বসন্তেও ‘দুই ফুলের’ মধ্যে ২ কিলোমিটারের দূরত্ব রয়েই গেল। বালুরঘাট ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের মাঠে একটি নৃত্য সংস্থার দ্বারা আয়োজিত বসন্ত উৎসবে মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেতাদের ভিড় উপচে পড়ল। ওই উৎসবে পদ্ম শিবিরের কোনও নেতার দেখা পাওয়া যায়নি। ঠিক ২ কিলোমিটার দূরে দীপালিনগর মাঠে তখন সুকান্ত মজুমদার, অশোক লাহিড়ি, বিজেপির জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী সহ জেলার তাবড় তাবড় বিজেপির নেতারা জনসাধারণের সঙ্গে রং খেলায় মাতলেন। একটি জনপ্রিয় ব্যান্ডের গানের তালে তালে নাচতেও দেখা গিয়েছে পদ্ম নেতাদের।
একটি নৃত্য সংস্থা গত কয়েক বছর ধরে বালুরঘাটে (Balurghat) বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে। প্রথমে বালুরঘাটের হাইস্কুল মাঠে এই উৎসবের আয়োজন করা হত। বর্তমানে ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের মাঠে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে দোলের দিন তৃণমূল, বিজেপি (BJP), বাম সমস্ত দলের নেতা-কর্মীদের অংশ নিতে দেখা যেত। সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের যোগদানে এই বসন্ত উৎসব মিলনমেলার রূপ নিত। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের মাঠের আশপাশে পদ্ম শিবিরের কোনও নেতা-কর্মীর দেখা পাওয়া যায়নি। গত তিন বছর ধরে বালুরঘাটের দীপালিনগর এলাকায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বাসস্থানের পাশে অবস্থিত দীপালিনগরের মাঠে এলাকার মহিলারা বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে থাকেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির থাকেন। এবার ওই অনুষ্ঠানে জেলার তাবড় বিজেপি নেতাদের উপস্থিত ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘দুই ফুলের’ দূরত্ব বজায় থাকলেও, বসন্তের এই রংমিলান্তি স্বস্তি দিল গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার জেলার ঘাসফুল শিবিরকে। ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের মাঠে আয়োজিত এই বসন্ত উৎসবে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে বালুরঘাট পুরসভার যুযুধান দুই শিবিরকে। পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান সুরজিৎ ঘোষ, প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষদের সঙ্গে ওই মঞ্চে দেখা গিয়েছে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্রকে। মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র এবং প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা গোষ্ঠীর এই সহাবস্থান বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে স্বস্তি দেবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। যদিও দোলের দিন রাজ্যের মন্ত্রী বিপ্লবকে বাড়ির বাইরে দেখতে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ভাই তথা গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রকে কালদিঘি পার্কে বসন্ত উৎসবে শামিল হতে দেখা গিয়েছে।
বসন্ত উৎসবে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে অর্পিতা বলেন, ‘অনেকদিন পর বালুরঘাটে এলাম। এদিন কয়েকটি ওয়ার্ডে গিয়ে দলের বিভিন্ন কর্মী এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে রং খেললাম। ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের মাঠের বসন্ত উৎসবে দলের সহকর্মীদের সঙ্গে রং খেললাম। খুব ভালো লাগছে।’
