উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: টানা ২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে উদ্ধার হলো গৃহবধূর মৃতদেহ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির (Bakkhali) হেনরি আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় বছর ৩৪-এর রাবিয়া ফকিরের পচাগলা দেহ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জহিরুল সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বালির নিচে দেহ (Homicide Case) পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জয়নগরের বকুলতলা থানা এলাকার বাসিন্দা রাবিয়ার সঙ্গে এলাকারই যুবক জহিরুলের বিবাহবহির্ভূত (Extramarital Affair) সম্পর্ক ছিল। গত ২৬ মে রাবিয়া হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে বকুলতলা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জহিরুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দীর্ঘ জেরা ও পুলিশের চাপের মুখে ভেঙে পড়ে জহিরুল খুনের কথা স্বীকার করে।
পুলিশের দাবি, জেরায় জহিরুল জানিয়েছে যে, ২৬ মে রাবিয়াকে সে বকখালিতে নিয়ে যায়। সেখানে হেনরি আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। এরপর দেহটি বালির নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি অরবিন্দ কুমার আনন্দের বয়ান অনুযায়ী, দুজনেই বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। ধৃতের দাবি, রাবিয়া তাকে ব্ল্যাকমেল করতেন এবং সম্পর্কের কথা সবার কাছে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বারবার টাকা চাইতেন। এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই সে এই চরম পথ বেছে নেয়।
শুক্রবার অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে বকুলতলা ও ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বালির নিচ থেকে দেহটি উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং খুনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, মৃতার ভাই আশরফ ফকিরের অভিযোগ, তাঁর দিদিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

