জলপাইগুড়ি: ৫১৭ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও শতাব্দীপ্রাচীন রাজকীয় রীতিনীতি মেনে বিজয়া দশমীতে মেতে উঠল জলপাইগুড়ির ঐতিহাসিক বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ি (Baikunthapur Rajbari Jalpaiguri)! এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল কনকদুর্গার পুজোয় পান্তাভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, কচুর শাক ও শাপলার ঝোলের অনন্য ভোগ নিবেদন এবং ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। তবে দেবীকে বিদায় জানানোর এই আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝেই ভক্ত ও রাজপরিবারের সদস্যদের মনে ছিল গভীর বিষাদের সুর।
জলপাইগুড়ির ৫১৭ বছরের প্রাচীন বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো বরাবরই তার স্বতন্ত্র রীতিনীতির জন্য বিখ্যাত। বিজয়া দশমীর সকালে নিত্যপূজিতা কনকদুর্গাকে পান্তাভাত, ইলিশ মাছ ভাজা, কচুর শাক এবং শাপলার ঝোল দিয়ে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। রাজপরিবারের এই প্রাচীন ও সুনির্দিষ্ট প্রথা দেখতে এদিন সকাল থেকেই রাজবাড়ি চত্বরে সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ভোগ নিবেদনের পর মাকে সিঁদুর ছোঁয়া ও বরণের পালা শুরু হয়। রাজবাড়ির বধূ লিণ্ডা বোস মায়ের সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর্ব সাঙ্গ করার পরই বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে শুরু হয় বর্ণিল সিঁদুর খেলা। জলপাইগুড়ির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মহিলারা এই উৎসবে শামিল হয়ে একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। সিঁদুর রাঙা গৃহবধূদের মুখে এই ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়িতে সিঁদুর খেলার অভিজ্ঞতা এক অনবদ্য ও আবেগঘন অনুভূতির সৃষ্টি করে।
সিঁদুর খেলা ও উল্লাসের পাশাপাশি সমগ্র রাজবাড়ি চত্বরে তখন উমা বিদায়ের বিষাদের সুর। কারণ, আনন্দ ও উদযাপনের সমাপ্তি ঘটিয়ে প্রথা অনুযায়ী এদিন বিকেলেই রাজবাড়ির নিজস্ব পুকুরে মায়ের ‘নিরঞ্জন’ (বিসর্জন) সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। শত শত বছরের এই ঐতিহ্য ও আবেগ বজায় রেখেই প্রতিবারের মতো এবারও বিষাদের ছায়ায় ইতি টানল বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গোৎসব।

