উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিজের খাবার খেতে না চাইলেও, বাবা-মা খেতে বসলে সেখান থেকে ভাগ না দিলে খুদের মন ভরে না। আর ‘অল্প খেলে কিছুই হবে না’, এমন ভুল ধারণা নিয়েই অনেক অভিভাবক শিশুকে চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়ান। কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই অভ্যাসটি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর (Baby Well being)।
চিকিৎসকদের মতে, চায়ে থাকা ‘ট্যানিন’ নামক উপাদান শিশুদের শরীরে আয়রন বা রক্তস্বল্পতা শোষণে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে। অনেক শিশুকেই ক্লিনিকে নিয়ে আসা হয় আয়রনের তীব্র ঘাটতি নিয়ে, যার অন্যতম নেপথ্য কারণ এই চা পান করার অভ্যাস। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও শিশুকে চা দেওয়া একেবারেই অনুচিত।
শুধু চা নয়, শিশুদের জন্য বিস্কুটও সমান ক্ষতিকর। বাজারচলতি বেশির ভাগ বিস্কুটই তৈরি হয় রিফাইন্ড ময়দা, অতিরিক্ত চিনি এবং পাম অয়েল দিয়ে, যা শিশুর পুষ্টির কোনও উপকারে আসে না। এর পাশাপাশি থাকে বিউটিলেটেড হাইড্রোক্সিঅ্যানিসোল এবং বিউটিলেটেড হাইড্রোক্সিটলুইন-এর মতো ক্ষতিকর প্রিজ়ারভেটিভ বা রাসায়নিক। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত এই উপাদানগুলো শরীরে প্রবেশ করলে শিশুর বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
এছাড়াও, বিস্কুটে থাকা বেকিং সোডা শিশুদের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিস্কুটের স্বাদ বাড়াতে যে কৃত্রিম ফ্লেভার বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়, তা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর মস্তিষ্ক ও ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সুতরাং, সন্তানের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তাদের ডায়েট থেকে এই অভ্যাসগুলো সরিয়ে আনাই বুদ্ধিমানের কাজ। চা বা প্যাকেটজাত বিস্কুটের পরিবর্তে শিশুকে স্বাস্থ্যকর ঘরে তৈরি খাবার, ফলমূল বা পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আজকের ছোট্ট অভ্যাসই আপনার সন্তানের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।

