উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীতি ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। বুধবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে (Social Media Publish) একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তিনি দুর্নীতি এবং দলত্যাগীদের বিষয়ে নিজের বিস্ফোরক মতামত ব্যক্ত করেছেন। যদিও পুরো বিষয়টি তাঁর ‘ব্যক্তিগত মতামত’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
বাবুল সুপ্রিয় তাঁর পোস্টে সরাসরি দুর্নীতি প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই যাঁরা দুর্নীতি, জনসাধারণের অর্থ তছরুপ বা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।” বাবুলের মতে, সেই সময় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলেই বর্তমান পরিস্থিতি এতটা জটিল আকার ধারণ করেছে। তাঁর এই মন্তব্য দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
‘সাপ মানুষের ছদ্মবেশে’— তোপ বাবুলের এই পোস্টের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি হলো তাঁর একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য। নাম না করে বাবুল লেখেন, একজন ব্যক্তি তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি কখনও ভাবিনি যে একজন সাপ মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।” যদিও এই মন্তব্যে তিনি কাকে উদ্দেশ্য করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি, তবে এই রহস্যময়ী আক্রমণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি বিতর্কিত কিছু ব্যক্তির বর্তমানে ‘৬০’-এর অংশ হয়ে যাওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বাবুল লেখেন, দলের প্রতীকে জিতে আসার পর কেউ দল পরিবর্তন করলে তাঁর সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিজেপি ছাড়ার সময় তিনি সাংসদ পদ ত্যাগ করেছিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তনের অধিকার সবার থাকলেও, নির্বাচিত পদের মর্যাদা রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
নিজের পুরনো দল বিজেপিকেও (BJP) এই পোস্টের মাধ্যমে পরোক্ষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। বাবুলের মতে, অন্য দল থেকে নেতাদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজেপির অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তৃণমূলের একজন বর্তমান সাংসদ হয়েও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সরকারের অতীত ভূমিকা নিয়ে এহেন সমালোচনামূলক পোস্ট তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোন প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
