উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ইরানের ইতিহাসের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দেশের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Khamenei Funeral) প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ইরান (Iran)। প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রকাশ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি থেকে শুরু করে পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ— সকলের চোখই ছিল অশ্রুসজল। খামেনেইয়ের এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও। বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা এই বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও, আমেরিকা ও ইজরায়েলের বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকে কড়া বার্তা দিয়ে ব্রাত্য রেখেছে তেহরান (Tehran)।
খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় অংশ নিতে তেহরানে উপস্থিত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান তথা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। অন্যদিকে, নতুন দিল্লির তরফে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পাঠানো হয়েছে দু’জন বিশেষ প্রতিনিধিকে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল তথা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন।
ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে খামেনেইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা, যেমন জম্মু ও কাশ্মীরের পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি এবং কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ছবিও সামনে এসেছে।
ইরানের সংবাদসংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে রাশিয়া, তুর্কমেনিস্তান, ইরাক ও আর্মেনিয়ার প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ, ওমান, উজবেকিস্তান, আজারবাইজান, বেলারুশ ও কিরঘিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং মিশর, নিকারাগুয়া ও কঙ্গোর মন্ত্রী-প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। তুরস্ক ও সৌদি আরবও তাদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যে সমস্ত দেশ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের আগ্রাসনকে সমর্থন করেছে, তাদের এই বিদায় অনুষ্ঠানে কোনোভাবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
তেহরানের গভর্নর জানিয়েছেন, খামেনেইয়ের শেষযাত্রার জন্য সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার ঠিক সকাল ৬টায় তেহরানের প্রার্থনাস্থলের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে, যা আগামী সোমবার পর্যন্ত চলবে। এই বিশেষ দিনে বাগদাদ শহরও সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের অনুমান, প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে প্রায় দেড় থেকে দু’কোটি মানুষ জড়ো হতে পারেন। আগামী ৯ জুলাই মাসাদ শহরে খামেনেইকে সমাহিত করা হবে।

