নয়াদিল্লি: ম্যাচ হেরেছ। কিন্তু যুদ্ধে জিতেছ। সমাজমাধ্যমে হ্যারিস রউফের স্ত্রী-র যে পোস্ট ঘিরে সমালোচনার ঢেউ। ভারতের কাছে টানা হারের পর কীভাবে যুদ্ধে জয়! অবাক পাকিস্তানের প্রাক্তনদের অনেকেই। প্রাক্তন পাক স্পিনার দানিশ কানেরিয়া তো ব্যঙ্গের সুরে বলেও দিলেন, ‘একে ৪৭’-এর জবাবে অভিষেক শর্মা, শুভমান গিলের ব্রহ্মোস হামলায় চূর্ণ পাকিস্তান।
ভারতীয় ওপেনারদ্বয় যেভাবে ধোলাই করেছে, দুইশো স্কোরও কম পড়ত। এরপর কানেরিয়ার কটাক্ষ, প্রথম দ্বৈরথে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে পাক টিম ম্যানেজমেন্ট। এবার মুখ বাঁচাতে ফখর জামানের ক্যাচ বিতর্ক নিয়ে হইচই বাঁধাচ্ছে। পালটা জবাব ভারতেরও। মাঠে অভিষেক-গিল তো মাঠের বাইরে ব্যাট ধরছেন প্রাক্তন ভারতীয়রা।
হরভজন সিং, যুবরাজ সিংদের কথায়, পাক ক্রিকেটারদের যা বলার বলতে দাও। তোমরা ছক্কায় তার জবাব দাও। ম্যাচের পর উইনিং পোস্টে অভিষেক লিখেছেন, ‘তোমরা বলো, আমরা জিতব।’ যে পোস্টে হরভজনের প্রতিক্রিয়া, ‘ওরা বলুক, তুমি ছক্কা হাঁকাও।’ শুভমান গিলের পোস্টে প্রতিক্রিয়া দিয়ে যুবরাজ দুই ছাত্রকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। আলাদা করে গিলের রিভার্স সুইপের কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ‘অসাধারণ রিভার্স’।
শুভমানের নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মজে রবিচন্দ্রন অশ্বীন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বীন লিখেছেন, ‘নিরাপদ ইনিংস। তারপরও ওর স্ট্রাইক রেট প্রায় দুশোর কাছাকাছি। নিজেকে হয়তো পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেনি। কিন্তু তারপরও এই ৪৭ রানের ইনিংস ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। চলতি এশিয়া কাপে এখনও বড় স্কোর পায়নি। আশাবাদী, এদিনের ইনিংস রসদ জোগাবে। যেভাবে রিভার্স সুইপ করল, ওভাবে শুভমানকে খেলতে দেখিনি।’
শিবম দুবের প্রশংসা করলেন। অশ্বীনের মতে, জসপ্রীত বুমরাহ অফকালার ছিল। এক-আধটা দিন এরকম যায় সব বোলারের। ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে। তবে বুমরাহ ছন্দে না থাকলেও শিবম যেভাবে দলকে ভরসা জুগিয়েছে, তার কথাও তুলে ধরেন। প্রাক্তন স্পিনারের যুক্তি, ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বল হাতে দলের ভারসাম্য বাড়াচ্ছেন শিবম।
অভিষেকময় ভারত-পাক দ্বৈরথে বীরেন্দ্র শেহবাগের গলাতেও শিবম-বন্দনা। বলেছেন, ‘তিন ওভারে ১৫-র কাছাকাছি রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুই উইকেট নিয়েছে। উলটো দিক থেকে বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদবও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখে। তিনজন মিলে তৈরি চাপের হাত ধরেই ম্যাচে ফেরা ভারতের।’
শেহবাগের অভিযোগ, শিবমকে আগের অধিনায়করা সেভাবে ব্যবহার করত না। সূর্যকুমার যাদব অবশ্য বল করাচ্ছে। ফলও হাতেনাতে। এখানকার উইকেটও শিবমের বোলিংয়ের সঙ্গে মানানসই। মন্থর গতির বল সামলাতে সমস্যায় পড়ছে ব্যাটাররা। বলের গতি ব্যবহার করতে না পেরে শটে বাড়তি শক্তি প্রয়োগের চেষ্টাতে টাইমিংয়ে গণ্ডগোল।
