নীতেশ বর্মন, শিলিগুড়ি: প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিজেপি যখন মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ পালনে ব্যস্ত, তখন রাজ্যে প্রদীপ কেনা ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি বুথে বাড়ি বাড়ি প্রদীপ বিলি করে ১৭ সেপ্টেম্বর সেগুলি জ্বালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, একই কর্মসূচির জন্য প্রশাসনকে প্রদীপ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Authorities-funded amps controversy)। প্রসঙ্গত, সেদিন প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিন। প্রশাসন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ৫০ হাজার করে প্রদীপ কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিডিও এবং জেলা প্রশাসনকে দ্রুত অর্ডার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর প্রদীপের বিল মেটাবে।
বিরোধীদের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি অর্থে প্রদীপ কিনে বাড়ি বাড়ি বিলি করে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন কাজের প্রচার করা যায় কি না, বাম ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা সেই প্রশ্ন তুলেছেন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর মুখ্যসচিবের স্বাক্ষরিত একটি প্রশাসনিক নির্দেশিকা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে। দার্জিলিং জেলা প্রশাসন এবং শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ প্রশাসনের কাছেও সেটি এসেছে। নির্দেশিকায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র পিছু ৫০ হাজার প্রদীপ কেনার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিডিও ব্লক স্তর থেকে প্রদীপ কিনে বিল পাঠাবেন। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর সেই খরচ বহন করবে। ১৭ সেপ্টেম্বরের আগে বিপুল সংখ্যক প্রদীপ তৈরি, কেনা ও বিতরণের নির্দেশ ঘিরে জেলা ও ব্লক স্তরে ব্যস্ততা শুরু হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বর্ষপূর্তি ও দলীয় কর্মসূচি সফল করতে সরকারি কোষাগারের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। একে প্রশাসনিক নৈতিকতার পরিপন্থী বলেও অভিযোগ উঠেছে। সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, একজন বিজেপি নেতার বর্ষপূর্তিকে সরকারি কর্মসূচি হিসাবে দেখানো হচ্ছে। এতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। অশোকের বক্তব্য, ‘নরেন্দ্র মোদির শেষযাত্রার অনুষ্ঠানকে স্মরণে রাখতেই এই ব্যবস্থা। সরকারি অর্থের অধিকার সবার। কিন্তু কোনও একজনকে খুশি করতে বিজেপি এটা করছে। মানুষই এর জবাব দেবে।’ কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা (সমতল) সভাপতি কুন্তল রায়ের বক্তব্য, ‘সরকার এবং দলকে একই সারিতে রেখে কাজ চলছে। যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপদ। মোদির ২৫ বছর পূর্তি উৎসবে যে টাকা নষ্ট করা হচ্ছে তাতে উন্নয়নমূলক প্রচুর কাজকর্ম করা যেত।’ এবিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলের বক্তব্য, ‘প্রশাসন কী করবে সেটা তাদের বিষয়। আমরা প্রতিটি বুথে ১০০টি করে প্রদীপ বিলি করব। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতারাই সেগুলি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন।’
এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রদীপ সংগ্রহ ও বিতরণ শেষ করা বিডিও এবং জেলা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহকুমার এক আধিকারিক বলেন, ‘সরকারি কাজ হিসাবে প্রদীপ বিলি করতে বলা হয়েছে। ঠিকমতো জোগান পেলে আমরা আমাদের মতো করে প্রদীপ বিলি করব।’
পাশাপাশি ‘আমার স্বপ্নের ভারত’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দপ্তর তা রূপায়ণ করবে। ‘নমো সেবা’, শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে তথ্য ও সংস্কৃতি, ‘অঙ্গন মিলন মেলা’ এবং ৭ অক্টোবর ‘সেবা জ্যোতি’ কর্মসূচির নির্দেশও প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরকে ‘কলস যাত্রা’র আয়োজন করতে বলা হয়েছে। কী কারণে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুষ্ঠান সরকারকে দিয়ে করানো হচ্ছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

