আসানসোল: রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গুন্ডা দমন বিল (Anti Gunda Invoice) পাস করালো রাজ্য সরকার। তবে এই বিল পাস হওয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বঙ্গের বিরোধী শিবির। এই নতুন আইন বা বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Meenakshi Mukherjee)।
মঙ্গলবার মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের দাবি ও অভিযোগ, এই আইনটি আসলে রাজ্যের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করার একটি হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন এই আশঙ্কাতেই ভুগছেন যে সাধারণ মানুষের অধিকারের লড়াই এবং আন্দোলনকে দমন করতেই এই বিল ব্যবহার করা হবে। সেই পথেই হাঁটতে চলেছে বিজেপি সরকার (BJP Govt)।
কেন্দ্রীয় সরকারের উদাহরণ টেনে সিপিএম নেত্রী বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বা দেশের অন্যান্য জায়গায় এইভাবে একটার পর একটা আইন আনা হচ্ছে। যেমন নতুন শ্রমকোড আইন। এর মূল লক্ষ্যই হলো শ্রমিকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং তাদের আন্দোলনকে দমন করা। রাজ্যের এই নতুন গুন্ডা দমন আইনটিও আগামী দিনে ঠিক একই পথে হাঁটবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিন এক সাক্ষাৎকারে এই আইনের ভবিষ্যৎ অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বলেন, “কাকে এখন গুন্ডা বলা হবে, কাকে গুন্ডা আখ্যায়িত করবে, কাকে গুন্ডা বলে কার গায়ে কি ট্যাগ লাগাবে৷ সেটাই তো হচ্ছে আসল কথা। যে বা যারা গুন্ডা বলে নির্দিষ্ট হয়ে গেল, যার গায়ে গুন্ডার স্ট্যাম্প পড়ে গেল, তাকে এই আইনের বলে দমন করা হবে।”
তিনি স্পষ্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজ্য সরকার নিজের ইচ্ছেমতো যেকোনো আন্দোলনকারী বা বিরোধীর গায়ে ‘গুন্ডা’ তকমা সেঁটে দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করার আইনি লাইসেন্স পেয়ে গেল। এটাই হলো আসল কথা।

