Annapurna Bhandar Scheme 2026 | ফর্ম ফিলাপের পরেও আসেনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা? জেনে নিন কোন ৫টি ভুলে আটকে থাকবে আপনার প্রাপ্য!

Annapurna Bhandar Scheme 2026 | ফর্ম ফিলাপের পরেও আসেনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩,০০০ টাকা? জেনে নিন কোন ৫টি ভুলে আটকে থাকবে আপনার প্রাপ্য!

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি স্তরে গত জুন মাস থেকেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের (Annapurna Bhandar Scheme 2026) অধীনে যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, ইতিমধ্যে বহু যোগ্য মহিলা এই প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র বা ফর্ম পূরণ করার পরেও তাদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা এসে পৌঁছায়নি।

ফর্ম ফিলাপ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় কেটে গেলেও কেন টাকা মিলছে না, তা নিয়ে চারদিকে বড়সড় বিভ্রান্তি দানা বেঁধেছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সাধারণ কিছু নিয়ম না জানা এবং আবেদন পদ্ধতিতে হওয়া বড়সড় ভুলের কারণেই বহু মানুষের প্রাপ্য টাকা মাঝপথে আটকে রয়েছে। ঠিক কোন কোন ভুল সংশোধন না করলে আপনার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা মিলবে না, দেখে নিন বিস্তারিত:

১. সামাজিক রেজিস্ট্রি যাচাইকরণে ব্যর্থতা

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার সবচেয়ে বড় এবং নতুন কারণ হলো সরকারের কঠোর যাচাইকরণ প্রক্রিয়া। নতুন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ স্ক্রিনিং বা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (Social Registry) তালিকার ওপর ভিত্তি করে এই প্রকল্পের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে। বহু আবেদনকারী ফর্ম পূরণ করার সময় নিজেদের বর্তমান ঠিকানা বা ভোটার তথ্যে গরমিল রেখে দিয়েছেন। সরকারি স্তরে অনুসন্ধানের সময় যদি দেখা যায় কোনও আবেদনকারী স্থায়ীভাবে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত (Shifted Resident) হয়েছেন কিংবা নির্বাচনী খসড়া তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে, তবে কম্পিউটার সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই আবেদন ব্লক করে দিচ্ছে। তাই নিজের নাম ভোটার তালিকায় সঠিক অবস্থায় সচল আছে কি না, তা যাচাই করা সবার আগে প্রয়োজন।

২. আয়করের তথ্য গোপন

নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার মাপকাঠি অত্যন্ত কড়া করা হয়েছে, যা অনেকেই ফর্ম পূরণের সময় খেয়াল করেননি। এই নিয়মানুযায়ী, আবেদনকারী নিজে যদি একজন নিয়মিত আয়কর দাতা বা ট্যাক্স পেয়ার (Revenue Tax Payer) হন, তবে তাঁর আবেদন সরাসরি নাকচ করার নির্দেশ রয়েছে নবান্ন থেকে। বহু মানুষ এই সমস্ত শর্তাবলি না জেনেই আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, যার ফলে ইন্টারনাল স্ক্রিনিং বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের সময়ে প্রশাসনিক আধিকারিকরা তাঁদের ফর্ম বাতিল বা হোল্ড করে রাখছেন।

৩. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় না থাকা

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সমস্ত টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (Direct Profit Switch) ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে। এখানে কোনও তৃতীয় পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীর স্থান নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, বহু আবেদনকারী ফর্মের সঙ্গে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর যুক্ত করেছেন, সেটিতে আধার লিঙ্কিং বা এনপিসিআই ম্যাপিং (Aadhaar Seeding and NPCI Mapping) করা নেই। ব্যাঙ্কের সাথে আধার কার্ডের এই ডিজিটাল সংযোগ বা ম্যাপিং সক্রিয় না থাকলে সরকারি পোর্টাল থেকে টাকা রিলিজ করার পরেও তা সরাসরি উপভোক্তার নিজের অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হতে পারে না। ফলে আপনার অজান্তেই টাকা আটকে থাকে ব্যাঙ্কের টেকনিক্যাল গেটওয়েতে।

৪. অ্যাকাউন্টের বিবরণ ও কেওয়াইসি সমস্যা

টাকা না পাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বর্তমান স্ট্যাটাস বা স্থিতি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মার্জার বা সংযুক্তিকরণ (Financial institution Merger) হওয়ার দরুন অনেক শাখার আইএফএসসি (IFSC) কোড পরিবর্তন হয়ে গেছে। আবেদনকারীরা যদি ফর্মে পুরনো কোড ব্যবহার করেন, তবে লেনদেন ব্যর্থ হতে বাধ্য। তাছাড়া গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন লেনদেন না করার কারণে নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাক্টিভ (Inactive Financial institution Account) হয়ে পড়ে রয়েছে। অ্যাকাউন্টে নিয়মিত নো ইয়োর কাস্টমার বা কেওয়াইসি আপডেট (KYC Replace) না থাকার কারণেও সরকারি অনুদান জমা হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাই নিজের নামে থাকা একক (Single) অ্যাকাউন্টটি সচল আছে কি না, তা স্থানীয় ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে এখনই পরীক্ষা করা দরকার।

৫. অস্পষ্ট নথিপত্র এবং স্বাক্ষরের অমিল

অনলাইন বা অফলাইন মাধ্যমে ফর্ম আপলোড করার সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্রের পরিষ্কার ছবি বা জেরক্স কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক। আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত আধার কার্ড, ভোটার আইডি (Voter ID Card) বা অন্যান্য প্রমাণপত্রের ছবি যদি অস্পষ্ট বা আবছা থাকে, তবে ব্লক বা পুরসভার ভেরিফিকেশন প্যানেল সেই আবেদন অনুমোদন করে না। এছাড়া আবেদনপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে যদি আবেদনকারীর সঠিক স্বাক্ষর বা টিপছাপ না থাকে, কিংবা নথিতে নিজের নামের বানানের সাথে ফর্মে লেখা বানানের অমিল দেখা যায়, তবে প্রশাসনিক আধিকারিকরা চূড়ান্ত অনুমোদন (Ultimate Approval) আটকে দেন। সব নথিতে স্বপ্রত্যায়িত বা সেলফ অ্যাটেস্টেড (Self Attested) সই করা হয়েছে কি না, তা অবশ্যই মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

আপনার সমস্ত তথ্য সঠিক থাকার পরেও যদি টাকা না আসে, তবে বিভ্রান্ত না হয়ে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করুন:

  • বিডিও বা এসডিও অফিসে যোগাযোগ: গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও অফিস (BDO Workplace) অথবা শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে মহকুমা শাসক বা এসডিও (SDO Workplace) অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
  • আবেদনের স্থিতি যাচাই: সেখানে গিয়ে নিজের জমার রসিদ বা একনলেজমেন্ট স্লিপ (Acknowledgement Slip) দেখিয়ে অফিশিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনের বর্তমান স্থিতি বা স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ পোর্টাল ও শিবিরের মাধ্যমেও সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করেছে।
  • ব্যাঙ্কের কাজ সম্পন্ন করা: ব্যাঙ্কের সমস্যা থাকলে দ্রুত হোম ব্রাঞ্চে (Dwelling Department) গিয়ে নতুন করে আধার লিঙ্ক এবং ডিবিটি (DBT) ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে, যাতে পরবর্তী কিস্তির টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *