উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ শিক্ষকের উপস্থিতিতে দশম শ্রেণির ক্লাসরুমে ঢুকে দুই ছাত্রীকে যন্ত্রচালিত করাত (চেইন-স) দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর (Andhra Pradesh) জেলার রাপ্তাদু গ্রামের জেলা পরিষদ হাই স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই হামলায় দুই ছাত্রীই গুরুতর জখম হয়েছে, যার মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পালানোর সময় অভিযুক্ত যুবককে ধর্মাবরম রেল স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২১ বছর বয়সি ধৃত যুবকের নাম হেমন্ত ওরফে দাম্মু। সে শ্রী সত্য সাই জেলার ধর্মাবরম মণ্ডলের নাগালুরের বাসিন্দা এবং মূল আক্রান্ত ছাত্রীর দূরসম্পর্কের আত্মীয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলটিতে মেরামতির কাজ চলায় হাতে করাত থাকা ওই যুবককে মিস্ত্রি ভেবে ভুল করেছিলেন নিরাপত্তারক্ষী ও কয়েকজন শিক্ষক। সেই সুযোগেই ক্লাস চলাকালীন বিনা বাধায় সে ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে।
যন্ত্রচালিত করাতের আঘাতে মূল আক্রান্ত ছাত্রীর গলা ও পেটে গভীর ক্ষত তৈরি হয় এবং তাঁর ডান হাতটি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রধান ওই ছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয় তার অপর এক সহপাঠী ছাত্রীও। চোখের সামনে এমন ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনায় পড়ুয়া ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ছাত্রীকেই দ্রুত অনন্তপুরের সরকারি সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা ছাত্রীটির জটিল অস্ত্রোপচার চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বা হেনস্তার জেরেই এই হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে যন্ত্রচালিত করাত নিয়ে একজন যুবক কীভাবে ক্লাসরুম পর্যন্ত পৌঁছে গেল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ার উপর ব্যক্তিগতভাবে নজর রাখছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভি অনিতা।
এদিকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, “রাপ্তাদু জেলা পরিষদ হাই স্কুলের ক্লাসরুমের ভিতরে দশম শ্রেণির ছাত্রীর উপর এই বর্বরোচিত হামলায় আমি গভীর ভাবে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। যারা স্কুলের ভিতরে আমাদের মেয়েদের নিশানা করে, সমাজে তাদের কোনও স্থান নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছি এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছি। এই ঘটনায় দায়ী নরপশুকে খুঁজে বার করে দ্রুত কঠোরতম আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

