নাগরাকাটাঃ দীর্ঘ টালবাহানা ও আইনি জটের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বুধবার থেকে খুলে গেল নাগরাকাটার বন্ধ আমবাড়ি চা বাগান (Ambari Tea Backyard)। তবে দীর্ঘ দিন বাগান বন্ধ থাকায় ৫৪৬ হেক্টরের এই বিশাল বাগানটি বর্তমানে আস্ত জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এবং হাতি ও চিতাবাঘের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। পদে পদে বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা ও বিপদের ভ্রুকুটি মাথায় নিয়ে এ দিন সকালেই পটকা ফাটিয়ে বাগান সাফাইয়ের কাজে নেমে পড়েছেন সাহসী শ্রমিকেরা। বাগান খোলায় স্বস্তি ফিরলেও বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক আর দীর্ঘদিনের বেকারত্বের যন্ত্রণার কথা ফুটে উঠেছে শ্রমিকদের মুখে।
শ্রমিক-মালিক অসন্তোষের জেরে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই প্রথম দফায় বন্ধ হয়ে যায় আমবাড়ি চা বাগান। দীর্ঘ ৬৯ দিন অচল থাকার পর সে বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বাগান খুললেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি ফের জটিল হয়ে ওঠে। গত বছরের ১ ডিসেম্বর পরিচালক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠার পর ৩ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বাগান। মাঝে জলপাইগুড়িতে শ্রম দপ্তরের উদ্যোগে একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধানসূত্র মেলেনি। অবশেষে পুজোর আগে গত ৭ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত শ্রম কমিশনারের দপ্তরে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে জট খোলে। সেই অনুযায়ী বুধবার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাইরেন বেজে ওঠে আমবাড়িতে।
দীর্ঘদিন পরিচর্যা না হওয়ায় ৫৪৬ হেক্টরের এই বাগানটি এখন ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। বাগানের অন্তত ৩টি সেকশনে হাতি ডেরা বেঁধে রয়েছে এবং বেড়েছে চিতাবাঘের উপদ্রবও। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়েই কাজ শুরু করতে হয়েছে শ্রমিকদের। এ দিন সকালে কলম, ছুরি ও কোদাল হাতে জঙ্গলে নামার আগে পটকা ফাটিয়ে বন্যপ্রাণী তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।
শ্রমিক আষাঢ়ি ওরাওঁ মুচকি হেসে বলেন, “জন্তু-জানোয়ারের ভয়ই এখন সবচেয়ে বেশি। তাও সই, বাগান তো খুলল! এতদিন কীভাবে সংসার চলেছে, একমাত্র আমরাই জানি।” আরেক শ্রমিক সবিত লোহার জানান, কাজের সময় চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হচ্ছে, কারণ খুব কাছেই হাতি রয়েছে। শকুন্তলা প্রধান ও মানসিং তামাংদের মতো শ্রমিকেরা জানান, সাপ, জোঁক, বিষাক্ত মাকড়সা ও বন্যজন্তুর ভয় থাকলেও বাগানকে আগের ছন্দে ফেরাতে তাঁরা পিছপা হতে নারাজ। চা বণিকসভা ডিবিআইটিএ-র সচিব শুভাশিস মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় বাগান খোলায় বড় স্বস্তি মিলেছে। আমবাড়ির প্রায় ১১০০ শ্রমিকের অনেকেই বাগান বন্ধ থাকায় ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন, তাঁদেরও বাগান খোলার খবর পাঠানো হয়েছে।

