রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman) জেলাজুড়ে বালি নিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ গৃহনির্মাণকারী থেকে শুরু করে ঠিকাদার, রাজমিস্ত্রি ও হাজার হাজার নির্মাণকর্মী। একদিকে বালি উত্তোলনে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে খোলাবাজারে চড়া দাম— এই দুইয়ের জাঁতাকলে নাজেহাল পরিস্থিতি জেলাবাসীর। আর এই জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে এবার রাজ্য প্রশাসন ও শাসকদলকে সরাসরি কাঠগড়ায় তুলে সরব হলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ পুইতুন্ডি।
মঙ্গলবার আসানসোলে (Asansol) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন, প্রশাসন খাতায়-কলমে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধের কথা বললেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। আসানসোল পুরনিগমের (Asansol Municipal Company) একাধিক ওয়ার্ড সহ জামুড়িয়া, বারাবনি, ডামরা এবং দামোদর নদ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে অবাধে বেআইনি বালির কারবার চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, শাসকদলের প্রথম সারির নেতাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনে একদম নীচু তলা থেকে এই অবৈধ চক্র পরিচালিত হচ্ছে।
বালি পরিবহনে চরম স্বজনপোষকতা ও পিস পার্টির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, বর্তমান শাসকদলের কোনো নেতার সবুজ সংকেত না থাকলে সাধারণ বালি বোঝাই ট্রাক্টরকে রাস্তায় চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। কোনো ট্রাক্টর কোনো নেতার ঘনিষ্ঠ না হলে সেটিকে মাঝরাস্তায় জোর করে খালি করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর নেতার অনুগামীদের মাধ্যমে সেই বালি বেশি দামে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি থানা এলাকায় এই সিন্ডিকেটরাজ ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সিন্ডিকেট ও বেআইনি কারবারের ফলে বাজারে বালির দাম এখন আকাশছোঁয়া এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। জেলায় গৃহনির্মাণ ও পরিকাঠামো খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হাজার হাজার শ্রমিকের রুটিরুজি আজ সংকটে। কংগ্রেস নেতার স্পষ্ট দাবি, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে এবং হাজার হাজার কর্মীর রুজি-রুটি বাঁচাতে অবিলম্বে বালি কালোবাজারি রুখতে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।

