আলিপুরদুয়ার: অপরাধী আর তাদের থাকার জায়গার সম্পর্কটা এখন খানিক ব্যস্তানুপাতিক। একদিকে গোটা রাজ্যে দিন-দিন বাড়ছে অপরাধীদের সংখ্যা, অন্যদিকে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সংশোধনাগারে স্থানসংকট। ব্যতিক্রম নয় আলিপুরদুয়ার সংশোধনাগারও (Alipurduar Correctional Residence)। সেখানে ক্রমশ অপ্রতুল হয়ে পড়ছে আসামিদের থাকার জায়গা। পাহাড়তলির এই শহরের সংশোধনাগারে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে প্রায় ৩৭৫ জন বন্দির। এক সময় যা প্রায় তিনশোও অতিক্রম করত না। তবে সেই সংখ্যা এখন ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪০০ বা তারও অধিক হয়ে পড়ছে বলে জানা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বন্দিদের থাকার বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে।
সংশোধনাগার সূত্রে খবর, এই বিকল্প ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। তবে বন্দির সংখ্যা তেমন না থাকায় অনেক ঘরই ফাঁকা পড়ে থাকত। তবে এখন সেখানে সংস্কারের কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। আরও প্রায় ২০০ জনের মতো থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্দিদের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও এখনও পরিকাঠামোগত তেমন সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার সংশোধনাগার সুপারিন্টেন্ডেন্ট কৌশিক সরকার কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে সংশোধনাগারের জমি জবরদখলের সমস্যা দূর করা সহ পরিকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে আলিপুরদুয়ার পুলিশ সুপার অমিতকুমার সাউ বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’
আলিপুরদুয়ারে জেলা আদালত তৈরি হতেই আগের তুলনায় মামলা বেড়েছে। বিশেষ করে নার্কোটিক্স (এনডিপিএস) সহ অন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কোর্টের কাজ চালু হওয়ায় মামলা ও আসামির সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে সম্প্রতি নতুন সরকার বদলের পর দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের নামেও বিভিন্ন থানায় অভিযোগের পাহাড় জমছে। স্বাভাবিকভাবেই ক্রমবর্ধমান আসামির সংখ্যার পেছনে এও অন্যতম কারণ বলে জানাচ্ছে আদালত। আলিপুরদুয়ার সংশোধনাগার সূত্রে জানানো হয়েছে, যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে বিষয়টি নজরে আসার পরেই আরও দুশো বন্দি থাকার বন্দোবস্ত চলছে। যে ভবন রয়েছে তা সংস্কার করলেই সমস্যা মিটবে বলে আশা করা যায়। তাই সেই কাজ শেষ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সংশোধনাগারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে সংশোধনাগারের সীমানা প্রাচীরের প্রায় গা ঘেঁষেই বসতি তৈরি হয়েছে। রয়েছে দোকানপাট। ফেলা হচ্ছে বাজারের বর্জ্যও। তবে তা যাতে বড় আকার নিতে না পারে, সে জন্য সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে জেলা পুলিশ।

