অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের এক মহিলা চিকিৎসককে ভিডিও কল এবং ফোন করে বিরক্ত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক বাদাম বিক্রেতা (Alipurduar)। জেলা হাসপাতাল চত্বরেই বাদাম বিক্রি করেন ওই অভিযুক্ত তরুণ। শনিবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। ঘটনাটি সামনে আসার পরই শোরগোল ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্বরে। প্রশ্ন উঠছে, একজন বাদাম বিক্রেতা কীভাবে কোনও চিকিৎসকের নম্বর জোগাড় করতে পারেন। আর চিকিৎসক আপত্তি জানালেও কেন তাঁকে বারবার ফোন করা হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আলিপুরদুয়ার থানার আইসি অনির্বাণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার তদন্ত চলছে।’
মৃন্ময় দাস নামে সলসলাবাড়ির ওই অভিযুক্ত তরুণকে এদিন আদালতে তোলা হলে আদালত ১৪ দিনের জেলা হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত চাইছেন মহিলা চিকিৎসকও। এদিন জেলা হাসপাতালের ট্রেনি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ওই মহিলা বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে রাত তিনটের সময় আমাকে এক অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল করা হয়। পরের দিন আবার ফোন করে ওই তরুণ নিজের পরিচয় দেন। আমি নম্বর ব্লক করে দেওয়ার কয়েকদিন পর আবার একইভাবে অন্য নম্বর থেকে ফোন ও ভিডিও কল করতে থাকেন। বাড়াবাড়ি কিছু হওয়ার আগে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিই।’
হাসপাতাল সূত্রে খবর, অভিযুক্ত তরুণ প্রায় তিন বছর থেকে জেলা হাসপাতাল চত্বরে বাদাম বিক্রি করছেন। প্রায় প্রতিদিনই তাঁকে হাসপাতালের আউটডোরে বাদাম বিক্রির জন্য দেখা যায়। কোনও চিকিৎসককে ফোন করে বিরক্ত করার ঘটনা আগে নজরে আসেনি কারও। ওই মহিলা চিকিৎসক যে আউটডোরে বসেন তা ওই বাদাম বিক্রেতা অনেকবারই লক্ষ করেছিলেন। কিন্তু তাতে তাঁর নম্বর পাওয়ার কথা না। হাসপাতালের কোনও কর্মীই কি তবে ওই বাদাম বিক্রেতাকে নম্বর দিয়েছেন? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের বিভিন্ন মহলে। হাসপাতালের চিকিৎসকের ব্যক্তিগত নম্বর সবার কাছে থাকে না। বিশেষ করে মহিলা চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে তো সেই সম্ভাবনা আরও কম। তাহলে কীভাবে এই নম্বর বাইরে এল সেটাও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।
