পিকাই দেবনাথ, কামাখ্যাগুড়ি: শেষ হয়েছে পুজোর ছুটি। শনিবার থেকে আলিপুরদুয়ার জেলার (Alipurduar) সমস্ত সরকারি প্রাইমারি স্কুল খুলে গিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম দিন দেখা গেল, প্রত্যেক বছরের সেই চেনা চিত্র– ফাঁকা ক্লাসরুম আর নীরব স্কুলপ্রাঙ্গণ। অধিকাংশ স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার খুব কম, এমনকি কিছু স্কুলে একজনও পড়ুয়া আসেনি।
শনিবার স্কুলে না আসা মানেই বাড়তি চারদিন ছুটি। রবিবার এমনিতেই স্কুল বন্ধ থাকবে। সোম ও মঙ্গলবার ছটপুজোর ছুটি রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেই কারণেই অনেকে পুজোর ছুটিকে আরও কিছুটা দীর্ঘায়িত করে নিতে এদিন স্কুলে আসেনি কিংবা অভিভাবকরাও ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাননি। ডিপিএসসি’র চেয়ারম্যান পরিতোষ বর্মন যদিও বলছেন, ‘আমার কাছে এধরনের কোনও খবর নেই। দীর্ঘদিন বাদে স্কুল খুলেছে। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু স্কুলে উপস্থিতির হার কম হতে পারে। আগামী সপ্তাহ থেকে অবশ্যই উপস্থিতির হার স্বাভাবিক হবে।’
আলিপুরদুয়ার সার্কেলের চিত্তরঞ্জন প্রাইমারি স্কুল ও পূর্ব শান্তিনগর জিএসএফপি স্কুল এবং কুমারগ্রাম দুয়ার সার্কেলের খোয়ারডাঙ্গা বিএফপি স্কুল ও কামাখ্যাগুড়ি গিল্ড মিশন প্রাইমারি স্কুল সহ আরও বেশ কিছু স্কুলে একজন পড়ুয়াও উপস্থিত ছিল না। যে কারণে মিড-ডে মিলও বন্ধ রাখা হয়। আলিপুরদুয়ার সার্কেলের দ্বীপচর প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিবাকর দাস জানালেন, মোট ৩৮ জন পড়ুয়ার মধ্যে প্রথম দিন উপস্থিত ছিল মাত্র ১০ জন। বাকিরা কেউ স্কুলমুখো হয়নি। তিনি বললেন, ‘ছটপুজোর পর বুধবার থেকে পড়ুয়ার সংখ্যাটা বাড়বে বলে আশা করছি।’
চিত্তরঞ্জন প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শঙ্খশুভ্র ধর বলেন, ‘আমাদের স্কুলে মোট ৭১ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। সাধারণত প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ জন আসে। ছটপুজো উপলক্ষ্যে শনিবার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে লাউভাত অনুষ্ঠান হচ্ছে। তাই তারা স্কুলে আসেনি।’ পূর্ব শান্তিনগর জিএসএফপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্রনাথ সিংহের বক্তব্যও একই। ছটপুজোর কারণেই স্কুলে কেউ আসেনি বলে তাঁর মত।
খোয়ারডাঙ্গা বিএফপি স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপ বিশ্বাস জানালেন, ওই স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৮৫। কেউ প্রথম দিন স্কুলে আসেনি। তিনি বলেন, ‘এখনও ছটপুজো বাকি। তাই উৎসবের রেশ কাটেনি।’ ওই স্কুলের এক অভিভাবক শিবু রায়ের কথায়, ‘দু’দিন ছটপুেজার জন্য স্কুল বন্ধ থাকবে। তাই ছেলেকে স্কুলে পাঠাইনি। বুধবার থেকে নিয়মিত পাঠাব।’
তবে মঙ্গল সিং মেমোরিয়াল প্রাইমারি স্কুলে ২১ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিল। প্রধান শিক্ষক সুব্রত কর জানালেন, মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৬৪। অন্য সময় প্রতিদিন ৪৫ থেকে ৫০ জন উপস্থিত থাকে।
