আয়ুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার: কথায় বলে, ইতিহাসের নাকি পুনরাবৃত্তি হয়। তা বলে এত ঘনঘন? গত জুন মাসের পর ফের নভেম্বর। মাঝে ছয় মাসও কাটেনি। ফের আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্যারেড গ্রাউন্ড।
গত মে মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) এসেছিলেন আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে। অভিযোগ, মোদির সভার জন্য প্যারেড গ্রাউন্ডের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তারপর জুন মাসে প্যারেড গ্রাউন্ডের বেহাল দশা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আলিপুরদুয়ারের নাগরিকরা। বর্তমানে প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি নির্মাণ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হচ্ছে। গত দু’একদিন ধরে নাগরিক মহলের তরফে প্রতিবাদ তো চলছিলই। এবার তাতে রাজনীতির ছোঁয়াও লেগে গেল। মঙ্গলবার জেলা বিজেপির তরফে প্যারেড গ্রাউন্ডের সেই জায়গা পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিরা। তারপর তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যান। তখন তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ডুয়ার্সকন্যার সামনে ৩০ মিনিটের মতো অবস্থান-বিক্ষোভও করেন। এরপর মহকুমা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। তার আগে সোমবারই প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে পুরসভার বিরোধী দলনেতা শান্তনু দেবনাথ সহ কংগ্রেস কর্মীরা স্মারকলিপি দিয়ে এসেছেন। তাঁরাও মাঠ পরিদর্শন করেছেন। আবার সিপিএমের তরফেও দাবি করা হয়েছে, প্যারেড গ্রাউন্ডে কী কাজ হচ্ছে, সেটা সবাইকে জানাতে হবে।
বিজেপি (BJP)-র আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, ‘আলিপুরদুয়ারের হৃৎপিণ্ড প্যারেড গ্রাউন্ড। সেটাকে দ্বিখণ্ডিত করা হচ্ছে। সেখানে গর্ত খুঁড়ে কংক্রিটের পিলার, বেড়াজাল তৈরি করা হচ্ছে। এটা মানা যায় না। আমরা চাই একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে প্যারেড গ্রাউন্ড, শহরবাসীর স্বার্থে এবং জেলার উন্নয়ন হোক। আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই। কিন্তু উন্নয়নের নাম করে সবুজ ধ্বংস, কাটমানি নেওয়ার চিন্তা করা হয়। তার বিপক্ষে আমরা সর্বদা ছিলাম, আছি ও থাকব।’
গতবার মোদির অনুষ্ঠানে মাঠের ক্ষতি হওয়ার পর সুবিধা পেয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি ছিল কোণঠাসা। এবার আবার জেলা প্রশাসনের কাজ হওয়ায় ব্যাকফুটে তৃণমূল। সরব বিজেপি। এছাড়া, গত পরশু থেকেই শহরের নাগরিক সমাজ, পিপলস ফর প্যারেড গ্রাউন্ড সহ প্রবীণ নাগরিক সংস্থা ও আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সদস্যরা প্যারেড গ্রাউন্ডের ওই জায়গা পরিদর্শন করেছেন। গ্রিন বেঞ্চে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে প্যারেড গ্রাউন্ড নিয়ে সরগরম আলিপুরদুয়ার।
কী হচ্ছে সেখানে? প্যারেড গ্রাউন্ডের মাঝবরাবর থেকে শুরু করে পশ্চিম দিকে খেলোয়াড়দের জন্য একটা মাঠ তৈরি হচ্ছে। যার জন্য মাঠে গর্ত খোঁড়াও শুরু হয়। এরপর চারিদিক নেট দিয়ে ঘিরে খেলার মাঠ করা হবে বলে শোনা যাচ্ছিল। এই কাজেই আপত্তি জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহলের তরফে। নেচার ক্লাব ও প্রবীণ নাগরিক সংস্থার তরফে মঙ্গলবার প্যারেড গ্রাউন্ডে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। অরিজিৎ মালাকার ও ল্যারি বোসের একই কথা, মাঠকে মাঠের মতো রাখতে হবে। কংক্রিটের কোনও নির্মাণ করা যাবে না।
তৃণমূলের তরফে রাজ্য সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘আলিপুরদুয়ারের খেলাধুলোর মানোন্নয়নের জন্য আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আমার প্রস্তাব মতো ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। সেইসঙ্গে প্রশাসন প্লেয়ার্স এরিনা ও স্পোর্টস এরিনা তৈরি করার জন্য যে ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করেছে, সেই কাজ শুরু হচ্ছে। আলিপুরদুয়ারের খেলাধুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটা জরুরি। না জেনে যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা ভুল করছেন।’ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব সঞ্চয় ঘোষও।
আবার পুরসভার বিরোধী দলনেতা শান্তনু দেবনাথ বলেন, ‘মাঠটাকে নিয়ে তৃণমূল, বিজেপি দুই রাজনৈতিক দলই রাজনীতি করছে। এর আগে যখন প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন, সেই সময় মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। এবার সেই মাঠকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব প্রশাসনেরই। আর মাঠ নিয়ে এতদিন বিজেপির মুখে কোনও কথা ছিল না। এখন আবার ওরা রাজনীতিতে নেমেছে।’ শান্তনুর সুরেই সিপিএমের জেলা সম্পাদক কিশোর দাসও জানালেন, মাঠের ক্ষতির জন্যে তৃণমূল, বিজেপি সমভাবে দায়ী।
