Alipurduar | উৎসবে রোজগারের সুযোগ রাঁধুনিদের, কেটারিং সার্ভিসেরও নজর

Alipurduar | উৎসবে রোজগারের সুযোগ রাঁধুনিদের, কেটারিং সার্ভিসেরও নজর

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


সায়ন দে, আলিপুরদুয়ার: দেবীর বোধন আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হবে। তারপরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো শুরু। যার জন্য সারাবছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন উৎসবপ্রেমী বাঙালি। এই পুজোকে ঘিরে যে কতজনের সারাবছরের সংসার চলে, তার ইয়ত্তা নেই। অনেকে আবার বাড়তি রোজগারেরও মুখ দেখেন। সেরকমই দুটো পেশা হল কেটারিং সার্ভিস এবং রাঁধুনি।

আলিপুরদুয়ার শহরের (Alipurduar) পরিমল সরকারের কেটারিং এবং ডেকোরেটার্সের ব্যবসা রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে এখন অনেক ক্লাব অষ্টমী এবং নবমীতে এলাকাবাসীদের নিয়ে একসঙ্গে খাবারের আয়োজন করে। কোথাও খিচুড়ি, কোথাও পোলাও। পরিমল বললেন, ‘ক্লাবগুলো এখন সেই দায়িত্ব আমাদের দিচ্ছে। ফলে পুজোর সময় আমাদেরও বাড়তি রোজগার হচ্ছে।’

আবার কয়েকটি ক্লাব পুজোয় ভোগ এবং খাবারের দায়িত্ব কোনও কেটারারকে না দিয়ে নিজেদের উদ্যোগে রান্নার লোক কিংবা রাঁধুনি দিয়ে করান। এই কাজটি করেন আলিপুরদুয়ার শহরের সীমা মণ্ডল। তিনি চার বছর ধরে আলিপুরদুয়ার শহরের মহিলা অগ্রগামী ক্লাবের পুজোয় রান্না করে আসছেন। তাঁর কথায়, ‘পুজো কমিটিগুলো আগেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কোনদিন খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হবে, কী কী পদ রান্না হবে, সবটাই জানিয়ে দেওয়া হয়। সেইমতো আমরাও প্রস্তুতি নিই।’ কাজ শেষে কমিটির তরফে একটা শাড়ি এবং সাম্মানিক মেলে।

লোহারপুল সংলগ্ন ভাস্কর চক্রবর্তীও কয়েকবছর ধরে জংশনের একটি পুজো কমিটিতে এই রান্নার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। জানালেন, এবার অষ্টমী এবং নবমীতে এখনও পর্যন্ত খিচুড়ি এবং পোলাও রান্নার অর্ডার পেয়েছেন। অন্যদিকে পুজোতে এই রান্না করে উপার্জিত অর্থে পুজোর বাকি দিনগুলো কাটে কলেজপাড়ার বাসিন্দা ভূমিকা চক্রবর্তীর। তাঁর বক্তব্য, ‘পাড়ার পুজোয় মায়ের ভোগ এবং প্রতিবারই ক্লাব থেকে সকলকে নিয়ে ভোগপ্রসাদ বিলির ব্যবস্থা করা হয়। প্রত্যেকবারই আমি এবং আমার দুই সহযোগী মিলে সবটা সামলাই। তবে মায়ের ভোগ আমিই রান্না করি। কমিটিও প্রতিবছর অল্প কিছু টাকা বাড়িয়ে আমাদের পুজোর দিনগুলোকে আনন্দে কাটানোর সুযোগ করে দেয়।’

সংশ্লিষ্ট ক্লাবের সম্পাদক বিট্টু মোহন্ত জানান, ওরা এই পাড়ারই বাসিন্দা। তাই প্রত্যেকবছর ভোগরান্নার দায়িত্ব তাঁদেরই দেওয়া হয়। এতে ক্লাবেরও কিছুটা সাশ্রয় হয়। স্থানীয়রাও বাড়তি উপার্জন করতে পারেন।

এর আগে মায়ের ভোগ বিলির ব্যাপারটা থাকলেও এলাকার সকলকে বসে খাওয়ানোর চল শুরু হয়েছে হালে। আর এই প্রথায় খুশি রাঁধুনি সহ কেটারিং সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। যদিও নিরামিষের কথা চিন্তা করে কোনও কোনও ক্লাব কর্তৃপক্ষ সরাসরি রাঁধুনিদের ওপর এই দায়িত্বটা দিচ্ছেন।

যেমন মায়া টকিজ হল্ট দুর্গাপুজো কমিটি এবারও অষ্টমীর দিন খিচুড়ি বিতরণের আয়োজন করছে। ক্লাবের সম্পাদক সুজন রায় বললেন, ‘দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে আমরা প্রতিবছরই খিচুড়ি বিতরণের আয়োজন করি। এ বছরও অষ্টমীতে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আমরা খিচুড়ি বিতরণ করব। আমরা কমিটির তরফে এই রান্নার দায়িত্বটা রাঁধুনিদেরই দিই। তাঁরাও দক্ষ হাতে এবং আমাদের নির্দেশ অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে সবটা সামলে দেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *