উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা সৃষ্টিকারী মাওবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান ও পুনর্বাসন নীতির ফল মিলতে শুরু করেছে! এই প্রেক্ষিতে একটি বড়সড় সাফল্য হিসেবে, রবিবার ছত্তিশগড়ের দন্তেওয়াড়া জেলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন ৩৭ জন মাওবাদী ক্যাডার। এর মধ্যে ১২ জন মহিলা সদস্যও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের সম্মিলিত মাথার দাম ছিল প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা, যা এই গোষ্ঠীর মধ্যে তাদের গুরুত্ব ও অপারেশনাল ক্ষমতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপার গৌরব রাই জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশেষত, চারজন প্রথম সারির মাওবাদী নেতার আত্মসমর্পণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ:কুমালি ওরফে অনিতা মাণ্ডবী, গীতা ওরফে লক্ষ্মী মড়কম, রঞ্জন ওরফে সোমা মাণ্ডবী এবং ভীম ওরফে জাহাজ কালমু। এই চারজনের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা করে। এই ধরনের হাই-প্রোফাইল ক্যাডারদের মূলস্রোতে ফেরা প্রমাণ করে, মাওবাদী সংগঠনের ওপর সরকারের চাপ ও আত্মসমর্পণের নীতি উভয়ই কার্যকরী।
রাজ্য সরকারও এই প্রক্রিয়ায় অনুঘটকের কাজ করছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই গত মার্চে ‘নকশাল আত্মসমর্পণ এবং আক্রান্তদের পুনর্বাসন নীতি ২০২৫’ ঘোষণা করেছিলেন। এই প্যাকেজে আত্মসমর্পনকারীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, আইনি সুরক্ষা এবং জীবনধারণের জন্য চাকরির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, বস্তার পুলিশ রেঞ্জের ‘পুনা মারঘাম’নামক সামাজিক উদ্যোগটি মাওবাদীদের মূল সমাজে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এক মানবিক সেতু হিসেবে কাজ করছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সাফল্য কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত ২০ মাসে শুধুমাত্র দন্তেওয়াড়া জেলাতেই ৫০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, যার মধ্যে ১৬৫ জনের ওপর পুরস্কার ঘোষিত ছিল। একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে, গত ২৩ মাসে গোটা ছত্তিশগড়ে ২,২০০-র বেশি মাওবাদী মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন,যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও ছিলেন। এই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন যে, এই আত্মসমর্পণকারীরা সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্পের সমস্ত সুবিধা পাবেন, যা ভবিষ্যতে আরও মাওবাদীকে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে উৎসাহিত করবে।
