Alipurduar | অ্যাসিডে মোছেনি জীবনের জয়গান

Alipurduar | অ্যাসিডে মোছেনি জীবনের জয়গান

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: ২০২০ সালে ছপক বলে একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। তাতে লক্ষ্মী আগরওয়াল নামে এক অ্যাসিড আক্রান্তের লড়াইয়ের কাহিনী রুপোলি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন দীপিকা পাডুকোন। সেই সিনেমা কি দেখেছিলেন আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া এলাকার বাসিন্দা সেই মহিলা? তিনি তো এখন নিজের জীবনের লড়াইটা লড়তে ব্যস্ত। তিনিও তো অ্যাসিড হামলার একজন শিকার।

গত মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরে অ্যাসিড ছুড়ে মারা হয়েছে এক মহিলার মুখে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তাল শহর। আর শহরের পুরোনো বাসিন্দাদের মনে পড়ে যাচ্ছে ২০১৫ সালের আরেকটি ঘটনার কথা। এনবিএসটিসি’র ডিপোতে এক কলেজ ছাত্রীর মুখে ছুড়ে মারা হয়েছিল অ্যাসিড। তাঁর মুখের অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার কথা হচ্ছিল সেই তরুণীরই বাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে।

‘যে ছেলেটা আমার মুখে ও শরীরে অ্যাসিড ছুড়েছিল, সে হয়তো চেয়েছিল আমার মুখ পুড়ে যাক। যাতে আমি হয় মরে যাই, নাহলে ঘরে বন্দি হয়ে থাকি। আর আজ দেখুন, আমি তো দিব্যি বাইরে বেরোচ্ছি। পড়াশোনা করছি। আগে একটা বেসরকারি চাকরি করেছি কিছুদিন। এখন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছি। দশজনের সঙ্গে মেলামেশা করছি। আর সেই ছেলেটাই তো জেলে।’ বলছিলেন সেই তরুণী।

সেই ঘটনার সময় ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে এবিএন শীল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করতেন। অ্যাসিড হামলার পর তাঁর আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মুখ, গাল, গলা, গলার নীচের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শুরু হয় মরণবাঁচন লড়াই। সেই লড়াই কিন্তু খুব একটা সহজ ছিল না। ঝলসে যাওয়া মুখ নিয়ে একরকম গৃহবন্দিই ছিলেন তিনি। এক বছরের বেশি সময় ধরে নানারকম চিকিৎসা চলে। পরিস্থিতি কিছুতেই স্বাভাবিক হচ্ছিল না। একসময় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। মা-বাবা, ভাই পাশে থেকে সবসময় সাহস জোগাতেন। কাহিনীটা বাঁক নিল কলকাতার পিজিতে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পরেই।

সেখানেই দক্ষিণবঙ্গের আরেক অ্যাসিড আক্রান্ত তরুণীর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। সেই তরুণীই তাঁকে সাহস জোগান। মনোবল বাড়ান।

তরুণীর কথায়, ‘সেই হামলার পর দীর্ঘদিন দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। মা-বাবা সবসময় পাশে ছিল। আলিপুরদুয়ারের অনেকে আমার ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন। তাঁরাও ভরসা জুগিয়েছেন। তবে পিজি’র সেই দিদি আমাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস দেন।’ বছরখানেক পর ফের পড়শোনা শুরু করেন। ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছেন তিনি। পড়াশোনা শেষে এখন চলছে কেরিয়ার গড়ার পালা। গৃহশিক্ষকতাও করেছেন।

ঘটনার পর প্রায় এক দশক কেটে গিয়েছে। তবে এখনও তাঁর সামনে দাঁড়ালে চোখে পড়বে সেই ঘটনার ছাপ। ফর্সা গালের ওপর কিছু দাগ সেই হামলার স্মৃতি বহন করছে আজও। তবে সেই দাগ কেবল চামড়ার ওপরেই রয়েছে। তাঁর মনের মধ্যে কোনও দাগ নেই। শারীরিক সমস্যাকে ঠেলে সরিয়ে তো দিয়েছেনই, হার মানেননি মানসিকভাবেও। তাঁর মা তো আজও সেই দিনগুলির কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। সেসব কথা আর মনেও করতে চান না। পুরোনো ঘটনার কথা জানতে চাইলে একপ্রকার এড়িয়েই গেলেন। বললেন, ‘আমরা সবসময় মেয়ের পাশে ছিলাম। ওকে সাহস দিয়েছি, যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু আমাকে সেসব দিনের কথা আর জিজ্ঞেস করবেন না।’

একসময় মেয়েটির হয়ে ন্যায়বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন ল্যারি বসু, রাতুল বিশ্বাসরা। দুজনই সেই তরুণীর মনের জোরের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *