উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লি বিমানবন্দরে (Delhi Airport) ঘটে যাওয়া এক মারাত্মক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত মাসের শুরুর দিকে তিনজন বিদেশি নাগরিক কোনো ধরনের ইমিগ্রেশন পদ্ধতি (Immigration Test) সম্পন্ন না করেই দিল্লি থেকে সরাসরি মিউনিখের বিমান ধরেছেন বলে খবর। এই গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতির জেরে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সরাসরি এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও-র কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা তলব করেছে এবং সংস্থাকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (Air India discover) পাঠিয়েছে।
নথি অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর এই তিন ইতালীয় যাত্রী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে অমৃতসর থেকে নয়াদিল্লিতে আসেন। এরপরে তাঁদের জার্মানির মিউনিখগামী একটি লুফথানসা ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী দিল্লিতে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক উড়ান ধরার পূর্বে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার কথা থাকলেও, তা করা হয়নি। উল্টে তাঁদের আন্তর্জাতিক ট্রানজিট বা ট্রান্সফার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকেই তাঁরা নির্দিষ্ট বিমানে চড়ে দেশ ছেড়ে চলে যান।
এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং দায়িত্ব নির্ধারণ করতে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের শীর্ষকর্তারা, এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রধান পি বালাজি, ইমিগ্রেশন কমিশনার এবং দিল্লি বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদাররা উপস্থিত থাকবেন।
ঘটনার গভীরে গিয়ে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে মোট নয়টি নির্দিষ্ট বিষয়ে লিখিত জবাব চেয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সাতদিনের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়াকে (Air India) এই নির্দেশিকা অমান্য করার কারণ এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানাতে বলা হয়েছে। মূল প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে, যে সমস্ত গ্রাউন্ড স্টাফ বা এয়ার ইন্ডিয়া ও স্যাটসের কর্মীরা ওই যাত্রীদের দেখভাল এবং এসকর্ট করছিলেন, তাঁদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব কী ছিল। এছাড়া নির্ধারিত আগমনী ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যাত্রীদের না পাঠিয়ে কেন আন্তর্জাতিক ট্রানজিট রুটের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অমৃতসর থেকেই ওই যাত্রীদের পরবর্তী লুফথানসা ফ্লাইটের অনওয়ার্ড বোর্ডিং পাস দিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ হাব-অ্যান্ড-স্পোক নীতি অনুযায়ী প্রাথমিক বা স্পোক বিমানবন্দরে এই ধরনের বোর্ডিং পাস ইস্যু করার কোনো সংস্থান নেই। এ ছাড়া এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকিতে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার নির্দিষ্ট নোডাল অফিসারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মন্ত্রক।
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিমান পরিবহন মন্ত্রককে হাব-অ্যান্ড-স্পোক নীতি লঙ্ঘন সংক্রান্ত পূর্বের সমস্ত ঘটনার একটি বিশদ বিবরণ প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। অমৃতসর সহ নির্দিষ্ট কিছু রুটেই এই মডেলটি কার্যকর রয়েছে, যেখানে যাত্রীরা উৎস বিমানবন্দরেই ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারেন। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলো এই কাঠামোর আওতাভুক্ত না থাকায় দিল্লির বিমানবন্দরে নেমে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন পার হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।

