উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দুপুরের ভারী খাবারের পর চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা অনেকেরই অভ্যেস (Afternoon Nap)। অনেকে একে ক্লান্তি দূর করার মাধ্যম মনে করলেও, চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস সবসময় স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমোনোর অভ্যাস রাতের ঘুম নষ্ট করার পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়িকেও এলোমেলো করে দিতে পারে।
কেন দুশ্চিন্তার কারণ?
শরীর একটি নির্দিষ্ট ছন্দ মেনে চলে। দিনের বেলা দীর্ঘক্ষণ ঘুমিয়ে নিলে রাতের ঘুমের গভীরতা ও গুণমান উভয়ই কমে যায়। ফলে অনিদ্রা বা ঘনঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হয়।
কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নীচের পরিস্থিতিগুলো থাকলে দুপুরের ঘুম নিয়ে সাবধান হওয়া জরুরি:
১. দিনের বেলা দীর্ঘ ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটা।
২. রাতে ঘুমের সমস্যা থাকা বা হজমের গোলমাল।
৩. প্রতিদিন এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ঘুমানো।
৪. বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে দীর্ঘক্ষণ ঘুম।
কী কী রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?
যদি দিনের বেলা অস্বাভাবিকভাবে ঘুম পায়, তবে তা সাধারণ ক্লান্তি ছাড়াও অন্য বড় রোগের লক্ষণ হতে পারে। যেমন— রাতের অপর্যাপ্ত ঘুম, স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট), থাইরয়েডের সমস্যা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা অবসাদ, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি কিংবা নিয়মিত কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
কী মেনে চলবেন?
দুপুরে ঘুমানো মানেই যে সবসময় ক্ষতিকর, তা নয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
১. সময়সীমা: ২০ থেকে ৩০ মিনিটের বেশি বিশ্রাম না নেওয়াই ভালো। একে বলা হয় ‘পাওয়ার ন্যাপ’।
২. খাওয়ার অভ্যাস: খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া উচিত নয়। শরীরকে খাবার হজমের সুযোগ দিন। হালকা কিছুক্ষণ পায়চারি করার পর বিশ্রাম নিতে পারেন।
৩. সময় নির্ধারণ: দুপুর ২টোর আগেই বিশ্রাম সেরে ফেলা উচিত। সন্ধ্যার দিকে ঘুমোলে রাতে ঘুম আসা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিশেষে, দুপুরবেলা অল্প সময়ের বিশ্রাম শরীরকে চনমনে করে তুলতে পারে, কিন্তু তা যেন দীর্ঘ অভ্যাসে পরিণত না হয়। শরীর যদি প্রতিনিয়ত ক্লান্তিবোধ করে এবং ঘুমের জন্য আকুতি জানায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
