উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রকৃতির নির্মম তাণ্ডবে বিপর্যস্ত পূর্ব আফগানিস্তান। মুষলধারে বৃষ্টির জেরে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়পায় দেশটিতে (Afghanistan) অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিখোঁজ হয়েছেন শতাধিক মানুষ। তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিক এই বিপর্যয় অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নূরস্তান (Nuristan) প্রদেশের রাজধানী পারুন শহরে। বন্যায় পারুনের মেয়র সহ বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া এই বিপর্যয়ে ৮০ জনেরও বেশি বাসিন্দা আহত হয়েছেন। তালিবান প্রশাসনের আশঙ্কা, এই বিপর্যয়ে ব্যাপক আর্থিক ও মানবিক ক্ষতি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে (ভিডিও ও ছবির সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) দেখা গিয়েছে, প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং একাধিক পুরভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় এক স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান আশিকউল্লাহ সাফি জানিয়েছেন, হড়পার তোড়ে পারুন শহরের পুরভবনটি একেবারে ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে নিখোঁজদের খোঁজ চালাচ্ছেন। জলের তীব্র স্রোতের কারণে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বড় বড় পাথর এসে জমা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল দেশ হলো আফগানিস্তান। দশকের পর দশক ধরে চলা যুদ্ধ, বিদেশি সেনা প্রত্যাহার এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে দেশটি অর্থনৈতিকভাবেও চরম বিপর্যস্ত। পরিবেশবিদদের মতে, নূরস্তান প্রদেশে অবাধে বনভূমি ধ্বংস এবং অবৈধভাবে গাছ কাটার ফলে মাটির জল ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়েছে, যা এই ধরনের হড়পার প্রকোপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। আফগানিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর আগামী বুধবারের মধ্যে দেশের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ১০টিতে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নদীমাতৃক ও প্লাবনপ্রবণ এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত এপ্রিল মাসেও উত্তর আফগানিস্তানে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল। সেসময় সরকারিভাবে দেড়শো মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হলেও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছিল মৃতের সংখ্যা তিনশো ছাড়িয়েছিল। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

