উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Meeting Election 2026) রণদামামা বেজে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ির ফণীর মাঠে তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়ের (Nirmal Chandra Roy) সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। উন্নয়নের পরিসংখ্যান ও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার খতিয়ান তুলে ধরে এদিন ধূপগুড়ি আসনটি পুনরায় তৃণমূলের দখলে আনার আহ্বান জানান তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটি বিজেপির দখলে থাকলেও, ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে সমীকরণ বদলে যায়। সেবার প্রায় ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতে বিধায়ক হন তৃণমূলের নির্মলচন্দ্র রায়। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা কেন্দ্রে ফের লিড পায় বিজেপি; প্রার্থী জয়ন্তকুমার রায় এগিয়েছিলেন ৬,৩৭২ ভোটে। লোকসভার সেই হারের ক্ষত মুছে এবার বিধানসভায় জয়ের ধারা বজায় রাখাই তৃণমূলের প্রধান লক্ষ্য।
এদিনের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি বাংলায় হেরে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। যদি ধূপগুড়িতে ফের বিজেপি জেতে, তবে আপনাদের ওই বঞ্চনার মডেলকেই সমর্থন করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, যেখানে তৃণমূল জিতেছে সেখানেও কাজ হয়েছে, আবার যেখানে জয় আসেনি সেখানেও উন্নয়নের কাজ থামিয়ে রাখা হয়নি।
বিগত বছরগুলোতে ধূপগুড়ির ভোল বদলে রাজ্য সরকারের ভূমিকা স্পষ্ট করে দেন অভিষেক। উপনির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো ধূপগুড়িকে মহকুমা ঘোষণা করা, মহকুমা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন দমকল কেন্দ্র স্থাপন, কৃষক বাজার এবং বানারহাট ব্লকে হিন্দি কলেজের মতো একাধিক প্রকল্পের খতিয়ান এদিন তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের কারণে মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এবার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই থাকবেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। কোন মুখে বিজেপি প্রার্থীরা ভোট চাইতে আসবেন?” এর পাশাপাশি SIR (Social Impression Evaluation) সংক্রান্ত জটিলতায় সাধারণ মানুষের যে হয়রানি হয়েছে, তাও এবারের নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ, মাল ও জলপাইগুড়ি সদর আসনে গতবার তৃণমূল জিতলেও, এবার ধূপগুড়ি-সহ জেলার সাতটি আসনেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জোড়াফুল শিবির।
