উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে যখন ভাঙনের সুর, তখন তৃণমূলের (TMC) অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ! সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দলের দুই প্রভাবশালী নেতা—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) মধ্যে নাকি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, শেষপর্যন্ত আসরে নামতে হয় স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
সূত্রের খবর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগের পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে উত্তর কলকাতার নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে কুণাল ঘোষের নাম ঘোষণার পরেই বৈঠকের মেজাজ বদলাতে শুরু করে। রদবদলের বিষয়টি নিয়ে আরও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তোলেন কুণাল। অভিষেক সেই দাবির প্রেক্ষিতে ‘ধৈর্য ধরার’ পরামর্শ দিতেই কুণাল বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন, “অভিষেক তুমি আর লেবু কচলে তেতো কোরো না।”
বৈঠক শেষ হওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি। বেরিয়ে যাওয়ার মুখে ফের মুখোমুখি হন দুজনে। প্রবীণ এক নেতার দাবি অনুযায়ী, অভিষেক কুণালকে প্রশ্ন করেন, “তুমি কি ঝগড়া করতেই এসেছিলে?” উত্তরে কুণাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি যা বলার তা দলের স্বার্থেই বলেছেন। প্রসঙ্গক্রমে উঠে আসে সুমিত রায়ের নাম এবং তাঁর বাড়িতে পুলিশের হানা দেওয়ার ঘটনা। পুলিশের এই আচরণের সমালোচনা করার কারণেই যে এই বিবাদ, তা কুণালের মন্তব্যে পরিষ্কার হয়ে যায়।
অভিষেক এবং কুণালের এই তর্কাতর্কি থামাতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত আসরে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবেগপ্রবণ নেত্রী তিন নেতার মাথায় হাত রেখে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন। দলীয় বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে দলের স্বার্থে সকলকে একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল যখন বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে, তখন দলের অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল মমতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবীণ নেতাকে হারানোর পর কুণাল-অভিষেকের এই মনোমালিন্য দলের কর্মীদের মধ্যে কী বার্তা দেয়, সেটাই এখন দেখার। আপাতত কালীঘাটের এই ঘটনাটি তৃণমূলের অন্দরের ‘ঠান্ডা লড়াই’কে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল।
