উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল পৌনে বারোটা। আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে সই-জালিয়াতি মামলার তদন্তে ভবানী ভবনে প্রবেশ করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তারপর কেটে গেল দীর্ঘ সাড়ে ৮ ঘণ্টা। সিআইডি (CID) গোয়েন্দাদের একের পর এক চোখা প্রশ্ন, নথিপত্র যাচাই এবং কুণাল ঘোষের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার টানটান পর্ব শেষ করে যখন তিনি বাইরে এলেন, তখন রাত নেমেছে কলকাতায়। কিন্তু সাড়ে ৮ ঘণ্টার এই ‘অগ্নিপরীক্ষা’ শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে একটি শব্দও খরচ করলেন না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। ঠোঁটে রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেই সোজা গাড়িতে উঠে রওনা দিলেন তিনি। উল্লেখ্য, এর আগেই প্রায় ৪ ঘন্টার জেরার পর ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। বাইরে বেরিয়ে তিনি এও জানান যে, তদন্তে তিনি সহযোগিতা করেছেন। অভিষেকের সাথে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার বিষয়টিও তিনি জানিয়েছিলেন সেই সময়।
অপরদিকে, রবিবারের পর সোমবার (১৫ জুন) প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে তলব করে রেখেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি তিনি হবেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
ঝড় এখানেই থামছে না। ঠিক তার পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার (১৬ জুন) অন্য একটি ফৌজদারি মামলায় অভিষেককে ফের তলব করেছে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি।অভিষেকের একটি পুরোনো বিতর্কিত বয়ান বা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সল্টলেক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তভার এখন সিআইডি-র হাতে। এই মামলার সূত্র ধরেই গত শুক্রবার খোদ অভিষেকের বাসভবনে গিয়ে তাঁর হাতে হাজিরার নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে এসেছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। তবে এই দুই মামলায় আপাতত কোনো রক্ষাকবচ নেই অভিষেকের।
রবিবার ভবানীভবনে জেরার ধকল সামলে, সপ্তাহের প্রথম দুদিনই কি অভিষেক ফের ইডি এবং সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেবেন? নাকি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কোনো অন্তর্বর্তী আইনি স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করবেন তাঁর আইনজীবীরা? এ নিয়ে তৃণমূল শিবিরের অন্দরে এখনও চরম গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। তবে কোনো রক্ষাকবচ না থাকায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টা যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও টানটান হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
