TMC insurgent MPs | এনসিপিআইয়ে যোগ দিতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলীদের, জানুন সংযুক্তির নেপথ্য রসায়ন

TMC insurgent MPs | এনসিপিআইয়ে যোগ দিতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলীদের, জানুন সংযুক্তির নেপথ্য রসায়ন

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : বাদল অধিবেশনের ঠিক মুখে জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। সংসদের নিম্নকক্ষে স্রেফ সংখ্যার জোরে তৃণমূল কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে নতুন কৌশল নিলেন দলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা (TMC insurgent MPs)। আইনি জটিলতা এড়াতে কোনও পৃথক গোষ্ঠী তৈরি না করে, ত্রিপুরার একটি কার্যত অপরিচিত আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশলালিস্ট সিটিজেনস পার্টি’ (NCP)-র ছাতাতলে আশ্রয় নিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন ২০ জন তৃণমূল সাংসদ। আজ এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করে কাকলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, লোকসভায় তাঁরা এবার থেকে পৃথক লাইনে বসবেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বকে সামনে রেখে কাজ করবেন। এই মাস্টারস্ট্রোকের ফলে লোকসভায় ২৮টি আসন বিশিষ্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কার্যত ৮ জনে এসে ঠেকল। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে বিরোধী জোটের শক্তির ওপর।

আইনি ফাঁকফোকর খোঁজার মরিয়া চেষ্টা?

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংযুক্তির সিদ্ধান্ত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিল বা ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ (Anti-defection Legislation) অনুযায়ী, কোনো দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দল ছাড়লে তবেই তাঁদের সাংসদ পদ টিকে থাকে। তবে সম্পূর্ণ পৃথক দল গঠন করার চেয়ে অন্য কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাওয়াটা আইনি দিক থেকে অনেক বেশি নিরাপদ। আর সেই কারণেই ত্রিপুরার এই বাঙালি-ঘেঁষা দলটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন বিদ্রোহীরা।

দল আসল, আইনসভার সদস্যরা নয়’: স্পিকারের দরবারে তৃণমূল

বিদ্রোহী শিবিরের এই চালের পাল্টা হিসেবে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আইনি ব্যাখ্যাকে হাতিয়ার করেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আজই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং সাগরিকা ঘোষ। তাঁরা দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি স্পিকারের হাতে তুলে দেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, “আইনসভায় কোনো দলের অস্তিত্ব তৈরি হয় মূল রাজনৈতিক দলটির মাধ্যমে। রাজনৈতিক দলের অবাধ্য হয়ে কোনো সদস্য বা সদস্য গোষ্ঠী নিজেদের স্বাধীন দল হিসেবে দাবি করতে পারেন না।”

তৃণমূলের মূল যুক্তি হলো, দলত্যাগ বিরোধী আইনের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে ‘পলিটিক্যাল পার্টি’ বা মূল রাজনৈতিক দলের ওপর, ‘লেজিসলেচার পার্টি’ বা আইনসভার সদস্যদের ওপর নয়। ফলে এই ২০ জন সাংসদ নিজেদের ইচ্ছামতো অন্য দলের সাথে মিশে যাওয়ার দাবি করলেই তা স্পিকারের সরাসরি মেনে নেওয়া উচিত নয়।

বাদল অধিবেশনের আগে ওলটপালট সমীকরণ

এই ভাঙনের ফলে লোকসভায় বিরোধী শিবিরের বেঞ্চ যে অনেকটাই হালকা হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ২৮ থেকে এক ধাক্কায় ৮-এ নেমে আসায় লোকসভায় তৃণমূলের দর কষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেল। এখন দেখার, স্পিকার ওম বিড়লা অভিষেকের দেওয়া আইনি চিঠির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের এই ‘ত্রিপুরা মডেল’ শেষ পর্যন্ত টিকবে, নাকি দলত্যাগ বিরোধী আইনের ধারালো তরোয়াল তাঁদের সাংসদ পদ কেড়ে নেবে— তা নিয়েই এখন তোলপাড় দিল্লির অলিন্দ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *