উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর প্রতিবাদ ও যন্তর মন্তর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দিল্লির রাজনীতির মাঝে বড় ঘোষণা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijeet dipke)। দলের দুই শীর্ষ নেতার গ্রেপ্তারি ও কারাবাসের জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সমর্থকদের মানসিক উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে আগামী দীপাবলি পর্যন্ত সমস্ত ধরনের প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে একটি লাইভ স্ট্রিমিং ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশিকা জারি করেন। উৎসবের এই দিনগুলিতে আন্দোলন থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে সমর্থকদের নিজেদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “দলের দুই সহকর্মী তিহার জেলে বন্দি থাকায় কর্মী-সমর্থকদের পরিবার যথেষ্ট মানসিক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমি চাই সবাই আপাতত প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত রেখে পরিবারের পাশে থাকুন।”
যদিও প্রকাশ্যে আবেগপ্রকাশ করার জন্য অনেকে তাঁকে ট্রোল বা কটাক্ষ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দীপক, তবুও সৌরভ ও আশুতোষ তাঁর পরিবারের মতো আপন হওয়ায় তাঁদের জন্য এই আবেগ যে স্বাভাবিক, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি ও সমমনোভাবাপন্ন বিরোধী দলগুলি। গত ১৩ অক্টোবর সেই আন্দোলন চলাকালীনই দিল্লির পুলিশ সিজেপি-র অন্যতম দুই মুখ সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাঁদের তিহার জেলে পাঠানো হয় এবং বর্তমানে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে।
সহকর্মীদের এই কঠিন পরিস্থিতি ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে সমর্থকদের মনোবল না হারানোর বার্তা দিয়ে দীপক বলেন, “সৌরভ ও আশুতোষ মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার পথেই হাঁটছেন। প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে থাকে ত্যাগে। সমস্ত বাধা পেরিয়ে তাঁরা যখন হাসিমুখে বাইরে আসবেন, তখন গোটা দেশ তাঁদের সম্মান জানাবে।” দলীয় সহকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি না ছাড়লেও, উৎসবের মরশুমে কর্মীদের পারিবারিক শান্তির কথা বিবেচনা করেই আপাতত সমস্ত রাজনৈতিক আন্দোলন দিওয়ালি পর্যন্ত স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্ত নিলেন সিজেপি প্রধান।

