উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বলিউড সুপারস্টার আমির খানের (Aamir Khan) নিরাপত্তা নিয়ে ফের তৈরি হল বড়সড় উদ্বেগ। গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম করে বলিউড অভিনেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাঁর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র প্রশাসনের তরফে অভিনেতার বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে তা আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিনেতার মুম্বইস্থিত বাসভবনের চারপাশের পুলিশি পাহারা ও নজরদারিও বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট (পোস্টের সত্যতাতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ)-কে কেন্দ্র করে এই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, এই হুমকি বার্তার নেপথ্যে রয়েছে ‘আরিজু বিষ্ণোই’ নামে এক ব্যক্তি, যে নিজেকে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেছে। ওই ভাইরাল পোস্টে আমির খানকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। মূলত অভিনেতার তৃতীয় বিবাহকে কেন্দ্র করেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ওই হুমকি বার্তায় আমির খানের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি ও ধর্মের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পোস্টে লেখা হয়েছিল, “জয় শ্রী রাম, জয় সীতা রাম। আমি আরিজু বিষ্ণোই এবং টাইসন বিষ্ণোই (লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং)। যারা আমাদের দেশে সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে ‘লাভ জিহাদ’-কে উৎসাহিত করছে, আমির খানের মতো লোকেরা তা করছে। আমরা তাদের যথেষ্ট সময় দিয়েছি এবং সতর্ক করেছি। এটি আমাদের শেষ সতর্কবার্তা। আমরা খুব শীঘ্রই এর উপযুক্ত জবাব দেব।…” সনাতন ধর্ম ও দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে তারকাখ্যাতির আড়ালে এমন কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না বলেও ওই পোস্টে হুমকি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ফের খবরের শিরোনামে এসেছেন আমির খান। চলতি বছর গৌরী স্প্রাট (Gauri Spratt)-কে বিয়ে করেছেন অভিনেতা। এটি আমিরের তৃতীয় বিবাহ। এর আগে ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন তিনি, যা ২০০২ সালে ভেঙে যায়। এরপর ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির, তবে ২০২১ সালে তাঁদেরও বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি গৌরী স্প্রাটের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার পরেই এই হুমকির ঘটনা সামনে আসায় ইন্ডাস্ট্রির (Bollywood) অন্দরে ও অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যোগেশ রামদাস কদম আগেই জানিয়েছিলেন যে, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়টিতে নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিনেতার নিরাপত্তা কঠোর করা হচ্ছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস বা স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি এই হুমকির তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

