সালটা ২০০৯। নানুরের পাপুড়ি গ্রাম ছাড়তে হয়েছিল প্রায় ৪০ পরিবারকে। কেটে গিয়েছে দেড় দশকেরও বেশি সময়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে চলতি মাসের ৯ তারিখের নির্দেশে নানুর থানার বিশাল পুলিশের সহযোগিতায় ফের পাপুড়ি গ্রামে ঢোকার সুযোগ পেলেন ঘরছাড়া পরিবারগুলি। এদিন তাঁরা নিজেদের বাড়িঘর ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। ফিরে আসা গ্রামবাসীদের অভিযোগের তীর ঋত পন্থী তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখের বিরুদ্ধে। পালটা কাজলের দাবি, “যাঁরা এতবছর গ্রামছাড়া ছিলেন, তাঁরা আসলে খুনের আসামি। সিপিএমের হার্মাদ।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে সিপিআইএম ও তৃণমূলের রানৈতিক সংঘর্ষের পর পাপুড়ি গ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবারকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল। পরিবারগুলির দাবি, এর আগে ২০১১ ও ২০১৬-তে পুলিশের সহাতায় তাঁরা গ্রামে ফিরতে পারলেও তাঁদের জন্য সরকারি জল, দোকানপাট-সহ বিভিন্ন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিষেবা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের সাহায্য নিয়েও গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হতে হন ওই পরিবারের সদস্যরা।
আরও পড়ুন:
তাঁদের আরও অভিযোগ, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় তাদের পাকা বাড়িগুলিতে জেসিবি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও হাঁসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ঘরছাড়া পরিবারগুলি। যদিও পালটা কাজলের দাবি, “সদু শেখ লতু শেখের খুনে এরা আসামি। আমার দুই দাদা, বাবাকে যারা মার্ডার করেছে, সেই কেসে এরা আসামি। সিরাজ শেখকে হত্যা করেছে। তার পর গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়। সকলেই দুষ্কৃতী। গ্রামের মানুষ ওদের চায় না।” এদিকতে ঘরছাড়া পরিবারগুলো গ্রামে ফিরলেও নেই তাদের ঘর বাড়ি। সমস্ত কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এখন শুধু পরে রয়েছে ঘরের কিছু কিছু ভাঙা অংশ ও পরিত্যক্ত জায়গা। এখন দেখার, নতুন সরকারের আমলে ঘরছাড়ারা গ্রামে পাকাপাকিভাবে বাস করতে পারেন কি না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
