বয়স ৯১। তবু ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে থেমে থাকেননি ফ্লো মেইলার। ভার্মন্টের শেলবার্নে তাঁর বাড়িতে ঢুকলেই চোখে পড়ে সারি সারি পদক। তাঁর সংগ্রহে ১২টি সোনা। সঙ্গে পোল ভল্ট ও ট্রিপল জাম্পে দু-দু’টি বিশ্বরেকর্ড। হাজার হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে ২০২৫ সালের ‘ইউএসএ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ফিমেল মাস্টার্স’ এবং ‘ওভারঅল মাস্টার্স অ্যাথলিট অফ দ্য ইয়ার’-এর সম্মানও পেয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন হল, হঠাৎ কেন আলোচনায় তিনি? কারণটা সোশাল মিডিয়া। সেখানে ভাইরাল হয়েছে এক বৃদ্ধার অবিশ্বাস্য পোল ভল্ট। তাঁর পরনে ছিল আমেরিকার পতাকা-ছাপ টি-শার্ট। সঙ্গে স্পোর্টস শর্টস। স্কুলের ট্র্যাকে হাজির হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। পোল হাতে দৌড়ে নির্দিষ্ট জায়গায় তা গেঁথে এক ঝটকায় উড়ে গেলেন আকাশে। মুহূর্তে ভল্ট খেলেন। তখন দুই পা মাথার উপর। এবং অনায়াসে টপকে গেলেন বার। ম্যাটে পড়ে একবার বাউন্স করলেন। এরপর উঠেও বসলেন। একেবারে পেশাদারদের মতো। চশমা খানিক বেঁকে গিয়েছে। চুলের খোঁপাও আলগা। তাতে কী! মুখে তখন চওড়া হাসি। মাঠজুড়ে হাততালি। কে বলবে, কিছুক্ষণ আগের হাসির বদলে চারপাশে কেবল চাপা উত্তেজনা ছিল।
আরও পড়ুন:
95 Years Previous. She Walked Onto the Observe Carrying a POLE🇬🇧💀#PowerOfCelibacy
कैप्टन विक्रम बत्रा#GodMorningWednesday pic.twitter.com/cjp0JdfomY— Mann (@Muskan_singh70) September 9, 2026
এই পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু ভিডিও সত্য কিনা, জানা যায়নি। অনেকেই বলছেন, এই ভিডিও সত্য নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। সেই কারণেই অনেকেই স্মরণ করেছেন ফ্লো মেইলারের কথা। কে তিনি? অ্যাথলেটিক্সে তাঁর পথচলা শুরু ৬০ বছর বয়সে। বন্ধু বারবারা জর্ডনের পরামর্শে ভার্মন্ট সিনিয়র গেমসে লং জাম্পে অংশ নিয়েছিলেন। তার পর থেকেই নেশার মতো জড়িয়ে পড়েন খেলায়। বয়স বাড়লেও অনুশীলনে ছেদ পড়েনি। সপ্তাহে তিন দিন ইউনিভার্সিটি অফ ভার্মন্টের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে অনুশীলন করেন। ৯০ বছর বয়সে পোল ভল্ট করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
অনুশীলনের সরঞ্জাম বহনের জন্য ফ্লোর সঙ্গী একটি পুরনো সিয়ার্সের ট্রলি। এক সময় সেই ট্রলিতেই সন্তানদের টেনে নিয়ে যেতেন। এখন সেটিই তাঁর অ্যাথলেটিক্স-সঙ্গী। শরীরের গতি কমছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখেন নিজেই। কমতে দেখলেই বাড়িয়ে দেন অনুশীলন ও ব্যায়াম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি আগের মতো লাফাতে পারি না, সেটা ভেবে খারাপ লাগে। কিন্তু এখনও খেলাটা খুব উপভোগ করি। এর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।” যে বয়সে বুড়িয়ে যায় হাড়। অশক্ত থাকে শরীর। সেই বয়সে এত ধকল কি নেওয়া সমীচীন? এই প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই অসাধ্যসাধন করে চলেন তিনি। নেটিজেনরা বলছেন, ‘যে বয়সে লাঠির ভরসায় হাঁটতে হয়, সেই বয়সে তাঁর হাতে লাঠি নিয়ে ট্র্যাকের পথে পা বাড়ালেন। বয়স বাড়লেও সাহসই যে জীবনের মূলধন, সেটাই দেখিয়ে দিলেন এই বৃদ্ধা।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
