৫ ঘণ্টা মুখের উপর আস্ত মৌচাক! বিশ্বরেকর্ড ভারতীয় যুবকের, দেখুন ভয়ংকর ভিডিও

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


মুখজুড়ে আস্ত মৌচাক। থিকথিক করছে মৌমাছি। আর সেই মৌচাক সমেত দিব্যি রিল্যাক্স মুডে বসে রয়েছেন এক যুবক। নেহাত দশ-পনেরো মিনিটের ঘটনা নয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি। গুঞ্জন তুলে মুখের উপর ঝুলে রয়েছে সেই মৌচাক। আর তিনি? একচুল নড়লেন না। কাঁপলেন না! যেন এতেই তাঁর স্বর্গসুখ!

ছবিটা তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলির। রাজাবাল্লিয়ুরের ২৭ বছরের যুবক ইসাক্কি মুথু, যাঁর ডাকনাম মুরুগান। সম্প্রতি তিনি যা করে দেখালেন, তা দেখে থ হয়ে গিয়েছেন নেটপাড়া। অবাক হয়েছেন পতঙ্গবিজ্ঞানীরাও। মুখের উপর কয়েক হাজার মৌমাছি নিয়ে একভাবে বসে রইলেন টানা ৫ ঘণ্টা ৩ মিনিট! না, কোনও জাদুমন্ত্র দিয়ে নয়। স্রেফ ধৈর্য আর সাহসে ভর করে তিনি গড়ে ফেললেন নয়া বিশ্বরেকর্ড। ‘চোলান ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ এবং ‘চায়না বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ স্থান করে নিয়েছে তাঁর এই অবিশ্বাস্য কীর্তি। ভ্যালিয়ুরের মারিয়া আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স কলেজে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত হয়েছিল এই অবাক করা অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:

কিন্তু কেন এই জীবনপণ ঝুঁকি? শুধুই কি সস্তার খ্যাতি বা রেকর্ড গড়ার নেশা? মুরুগান বলছেন, একদমই নয়। এই অদ্ভুত স্টান্টের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর উদ্দেশ্য। পেশায় তিনি কৃষিশিক্ষার স্নাতক। পড়াশোনা শেষ করে অন্য কোনও কর্পোরেট চাকরি বেছে নেননি। আঁকড়ে ধরেছেন মৌমাছি পালনকে।

মুরুগান বিশ্বাস করেন, আমাদের পরিবেশ এবং চাষবাস বাঁচিয়ে রাখতে মৌমাছির ভূমিকা অপরিসীম। পরাগায়নের মাধ্যমে শস্য উৎপাদনে এরা অনুঘটকের কাজ করে। কিন্তু বিষাক্ত হুলের ভয়ে মানুষ মৌমাছি দেখলেই তেড়ে যায়, পিষে মারে। প্রকৃতির এই বন্ধুর প্রতি মানুষের ভয় তাড়াতেই তিনি নিজের মুখটাকে বানিয়ে ফেললেন জীবন্ত মৌচাক! তাঁর বার্তা পরিষ্কার—সঠিক জ্ঞান আর ধৈর্য থাকলে মৌমাছি কখনওই শত্রু নয়। তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও বেশ কিছুদিন ধরে মৌমাছি পালনের গুরুত্ব নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। মুরুগানের এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ যেন সেই উদ্যোগকেই একধাক্কায় অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিল।

হাজার হাজার মৌমাছি যখন মুখের সংবেদনশীল ত্বকের উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায়, তখন চোখের পাতাটুকু ফেলতে না পারা মোটেও সহজ কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন কঠিন মানসিক নিয়ন্ত্রণ। তরুণদের কাছে মৌমাছি পালনকে একটি লাভজনক জীবিকা হিসেবে তুলে ধরাই মুরুগানের আসল লক্ষ্য। তাঁর এই রোমহর্ষক কাণ্ড এখন সোশাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল। তবে রেকর্ডের ট্রফি বা লাইকের চেয়েও প্রকৃতির খুদে বন্ধুদের জন্য মানুষের ভালোবাসা আদায় করাই তাঁর আসল জয়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *