১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। ৩১ বছরে আগের সেই অপরাধে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হল ৭৫ বছরের এক ব্যক্তির। ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের নির্দেশে কারাবাসের শাস্তি হয়েছে রেলের তৎকলীন পার্সেল ক্লার্ক কালী শংকর ধোবির। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন— লঘু পাপে গুরুদণ্ড হল না তো?
হিসাব বলছে, ১৯৯৫ সালে কালী শংকর ধোবির বয়স ছিল ৪৪ বছর। সেই সময় তিনি রাঁচির হাতিয়া রেল স্টেশনের পার্সেল ক্লার্ক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগকারী নির্মল কুমার বেগানি তাঁর মোটরসাইকেল হাতিয়া থেকে বিহারের সমস্তিপুরে পাঠাতে চেয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, এর জন্য ১০০ টাকা ঘুষ চান কালী শংকর। পুলিশ না, একেবারে খোদ সিবিআইকে বিষয়টি জানান নির্মল কুমার।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ যাচাই করার পর সিবিআই একটি ফাঁদ পাতে। ১৯৯৫ সালের ২৭ এপ্রিল ১০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় সিবিআই-এর একটি দল কালী শংকর ধোবিকে হাতেনাতে ধরে। এরপর দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রাথমিকভাবে মামলাটি বিশেষ আদালতে ওঠে। প্রায় নয় বছর ধরে চলা বিচারের পর ২০০৪ সালে বিশেষ আদালত কালী শংকর ধোবিকে দোষী সাব্যস্ত করে। ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন’-এর ৭ নম্বর ধারার অধীনে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৪,০০০ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়।
আরও পড়ুন:
আরও এক ধারার অধীনে অভিযুক্তকে দেড় বছরের কারাদণ্ড ও ৬,০০০ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। উভয় ধারার সাজা একইসঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টে আপিল করেন কালী শংকর। গত দুই দশক ধরে মামলা চলে সেখানে। অবশেষে বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তব নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখলেন। তবে কারাবাসের সময় কমিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বৃদ্ধ এবং অসুস্থ অপরাধীর কথাও বিবেচনা করে রায় দেয় ঝাড়খণ্ড আদালত।
আদালত ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন’-এর ৭ ধারার অধীনে প্রদত্ত এক বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ছয় মাস করেছে। পাশাপাশি, ১৩(২) ধারার অধীনে দেওয়া দেড় বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে এক বছর করেছে। বিচারকের নির্দেশে উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ৩১ বছর আগে একশো টাকা ঘুষ নেওয়ার দায়ে কালী শংকর ধোবিকে সর্বোচ্চ এক বছর কারাবাস করতে হবে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ যেমন বলছেন, টাকার পরিমাণ সামান্য হলেও একজন সরকারি কর্মী হয়েও ঘুষ নিয়ে অন্যায় করেছিলেন কালী শংকর। শাস্তি ভোগ করতেই হবে তাঁকে। অন্য পক্ষের বক্তব্য, দেশের কয়েক হাজার কোটি টাকা নয়ছয় করে বিদেশে বহাল তবিয়তে বহু ধনী ব্যবসায়ী। অথচ সামান্য ১০০ ঘুষ নেওয়ার জন্য জেল খাটতে হবে একজন সামান্য আয়ের প্রবীণ প্রাক্তন সরকারি কর্মচারীকে। একেই লঘু পাপে গুরু দণ্ড!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
