১৬ বছর ধরে সবই অন্ধকার, অসাধ্যসাধন বর্ধমান মেডিক্যালের! ডান চোখের দৃষ্টি ফিরে পেলেন বৃদ্ধা

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


দেশের বিভিন্ন বড় হাসপাতাল ঘুরে ১৬ বছরেও দৃষ্টি ফেরেনি ডান চোখের। ঝাপসা দেখেন বাম চোখেও। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অসাধ্যসাধন করেছে। ‘ডিসেক কর্নিয়া’ প্রতিস্থাপন করে বৃদ্ধার দৃষ্টি ফিরিয়েছে সরকারি হাসপাতাল। এই প্রথম এই অস্ত্রোপচার হয়েছে এখানে। রাজ্যে এর আগে কলকাতার রিজিওনাল ইনস্টিটিউড অফ অফথ্যালমোলজিতে ডিসেক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে সম্প্রতি। কিন্তু সেখানে বাইরের চিকিৎসকরা এসেছিলেন অস্ত্রোপচার করার সময়ে। সেই অর্থে রাজ্যে এই প্রথম কোনও সরকারি হাসপাতালে সাফল্যের সঙ্গে ডিসেক কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। 

পূর্ব বর্ধমান জেলার অগ্রদ্বীপর গাজিপুরের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী মেকু বিবি। তাঁর মেয়ে গোলাপি বিবি জানান, ১৬ বছর আগে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে মায়ের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়েছিল। তারপর থেকেই মেকু বিবি আর চোখে দেখতে পেতেন না। সেখানকার হাসপাতালে দেখানো হলেও দৃষ্টিশক্তি ফেরেনি। গত ১৬ বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল, চিকিৎসককে দেখান মেকু বিবি। বছর পাঁচেক আগে ইন্দোরে গিয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও ভাষাগত সমস্যা ও অর্থ খরচের জন্য সেখানে আর যেতে পারেননি। 

আরও পড়ুন:

চোখে যন্ত্রণা হত। সবসময় চোখ দিয়ে জল পড়ত। মেকু বিবি বলেন, “বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। মনে হত এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল।”

ফিরে বাড়িতেই ছিলেন ওই বৃদ্ধা। তারপর থেকে চোখে যন্ত্রণা হত। সবসময় চোখ দিয়ে জল পড়ত। মেকু বিবি বলেন, “বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। মনে হত এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল।” কিছুদিন আগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে চোখ দেখান মেকু বিবি। চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের টিমে থাকা সহকারি অধ্যাপক দত্তাত্রেয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে টিম তৈরি করে চিকিৎসা শুরু হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর মেকু বিবির চোখের ‘ডিসেক কর্নিয়া’ অস্ত্রোপচার করা হয়‌।

বর্ধমান মেডিক্যালের সুপার শান্তনু সেন জানান, “সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার উপরে ভরসা রেখেছিলেন ওঁরা। এখানে অনেক ভালো চিকিৎক আছেন। অনেক জটিল অপারেশন, রোগ তাঁরা সারিয়ে তোলেন।”

চিকিৎসক দত্তাত্রেয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ছানি অপারেশনের পরে চোখে একরকমের জল জমে যেত। কোনও দৃষ্টিশক্তি ছিল না। আধুনিক পদ্ধতি ডিসেক কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখন ওই মহিলা ভাল আছে। ভালভাবে দেখতেও পাচ্ছেন। দুর্গাপুরের একটি সংস্থার দেওয়া কর্নিয়া বর্ধমান মেডিক্যালেই ছিল। সেটাই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বর্ধমান মেডিক্যালের সুপার শান্তনু সেন জানান, “সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার উপরে ভরসা রেখেছিলেন ওঁরা। এখানে অনেক ভালো চিকিৎক আছেন। অনেক জটিল অপারেশন, রোগ তাঁরা সারিয়ে তোলেন। সবটা সবার নজরে সবসময় আসে না। বিনামূল্যে এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।” বর্তমানে মেকু বিবি সুস্থ হয়ে তাঁর বড় মেয়ে গোলাপি বিবির ভাতার থানার ভাটাকুলের বাড়িতে রয়েছেন।

মেকু বিবি বলেন, “আবার যে দেখতে পাব, ভাবতেই পারিনি।” তিনি আরও বলেন, “বর্ধমান হাসপাতালে অপারেশন করিয়ে চারদিন পরে চোখ খুলে আমি সব দেখতে পাচ্ছি।” জীবনের রঙটাই হারিয়ে গিয়েছিল। এখন সব রং স্পষ্ট দেখছেন মেকু বিবি। তিনি ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বর্ধমান মেডিক্যালের চিকিৎসকদের কাছে চির ঋণী হয়ে থাকবেন।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *