পালাবদলের বছরে শারদ উৎসবে এবার কার্যত জলসাই নেই। গত কয়েক দশক ধরেই প্রতি বছর দুর্গাপুজোকে ঘিরে পাড়ায় পাড়ায় চক্রবর্তী ফাংশন হওয়াটা প্রায় দস্তুর। সেই ‘সংস্কৃতি’তে এবার ভাটা। নামী ‘অর্গানাইজারদের’ কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় উদ্যোক্তা তো বটেই, ছোটখাটো কমিটিও প্রস্তাব দেয়নি। ফলে তাঁরাও অথৈ জলে। মুম্বইয়ের শিল্পীদের আনার খবর নেই বললেই চলে। শীতের সময়েও এর কোনও হেলদোল বা বদল হতে পারে, এমনটাও আশা দেখছেন না তাঁরা। পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এমনটাই থাকবে বলে মনে করছেন ওঁরা।
এছাড়া অন্যতম কারণ দেখা হচ্ছে, ১) রাজ্যে সরকার বদলের পর ফাংশন বা জলসা উদ্যোক্তাদের মধ্যেও দোলাচল রয়েছে, প্রশাসন সম্পর্কেও বেশিরভাগই গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ২) তোলাবাজি ও জুলুমবাজির প্রেক্ষিতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপের কথা বলায় চাঁদা তোলার ভরসা করতে পারছেন না অনেকে। পুলিশের ভূমিকা কেমন হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন বা সন্দেহ রয়েছে। উল্লেখ্য, কোনও ফাংশনে পুলিশ, দমকল বা অ্যাম্বুল্যান্সের অনুমোদন ও সহযোগিতা পাওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারও কারও মত, একটা বড় জলসার জন্য ঝুঁকি নিতে জানা নেতারও দরকার। সৎ-ডাকাবুকো তেমন নেতারও অভাব। কলকাতা ও বাংলার মিউজিক অর্গানাইজার হিসাবে কয়েক দশক ধরেই যে দু’জনের নাম অত্যন্ত পরিচিত তাঁরা হলেন, তোচন ঘোষ ও সজল মিত্র। তোচন ঘোষের ছেলে বনি ঘোষ ও মেয়েও এই পেশায়। সজলবাবুরও ছেলে দরকারে বাবাকে সহযোগিতা করছেন।
আরও পড়ুন:
তোচন ঘোষ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তিন-চারটি ফাংশনের জন্য কথা বলতে এসেছিলেন উদ্যোক্তারা। তাও কনফার্ম নয়। গত বছরও এই সময় আট-নয়টি বুক হয়ে গিয়েছিল। অথচ পুজোর বাকি ২১ দিন। সজল মিত্র তথ্য-হিসাব দিয়ে বোঝালেন, একটা অনিশ্চয়তা উদ্যোক্তাদের মধ্যে যেমন রয়েছে তেমনই মুম্বইয়ের শিল্পীদের দিয়ে ফাংশন করানোর অনেক হ্যাপা। মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে শিল্পীরা দরও বাড়িয়ে নিয়েছেন। প্রত্যেক শিল্পীই গতবারের থেকে ৫-১০ লক্ষ টাকা অন্তত বাড়িয়েছেন। সঙ্গে নামী হোটেল খরচ, দামী গাড়ি ও আধুনিক সাউন্ড-ব্যান্ডের খরচ তো রয়েছেই। বঙ্গজরাও পাঁচতারা হোটেলে থাকতে চান। শ্রেয়া-সুনিধি-সোনু বা শানু, অভিজিৎ, শান, মোনালিরা দেড় কোটি, এক কোটি বা ৬০-৭০ চাইছেন। জাভেদ আলির ক্ষেত্রেও খরচ ৪০-৪৫ লক্ষ হয়ে যায়। অগত্যা বিনোদ রাঠোর, জলি মুখোপাধ্যায় বা পূর্ণিমার মতো শিল্পীদের আনতে হচ্ছে। এবার তাঁদেরও চাহিদা শূন্যের পথে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
