অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সাহগেল হোসেনের বোলপুরের ফ্ল্যাটে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া রাজ্য পুলিশের তল্লাশি শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত। পুলিশ সূত্রের খবর, দীর্ঘ তল্লাশিতে ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে বিভিন্ন বিলাসবহুল এলাকায় জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত একাধিক দলিল রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু বীরভূম নয়, অন্যান্য জেলাতেও বিঘার পর বিঘা জমির হদিস মিলেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তল্লাশিতে সোনার গয়না ও নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে উদ্ধার হওয়া সোনা ও নগদের সঠিক পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়।
টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সাহগেলের কোনও আর্থিক বা সম্পত্তিগত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
বোলপুরের রবীন্দ্রবীথি বাইপাস সংলগ্ন সাহগেল হোসেনের ফ্ল্যাটে শনিবার বিকেলের পর থেকে সাহগেল হোসেন নিজেই উপস্থিত ছিলেন তিনি। তাঁর উপস্থিতিতেই তল্লাশি চালান রাজ্য পুলিশের আধিকারিকেরা। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নথির কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্পত্তি ও জমির মালিকানা সংক্রান্ত অসঙ্গতি প্রাথমিকভাবে নজরে এসেছে। সেই সূত্রেই সাহগেল হোসেনকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে খবর। এত বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, কীভাবে বিভিন্ন জেলায় এত জমি ও সম্পত্তি কেনা হয়েছিল, সেই সম্পত্তির সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে কি না—সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পাশাপাশি, টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সাহগেলের কোনও আর্থিক বা সম্পত্তিগত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে টুলুর বিরাট সাম্রাজ্যের বিষয়টি সামনে আসার পর একে একে গ্রেপ্তার হয়েছে তাঁর ম্যানেজার ও ঘনিষ্ঠরা। ম্যানেজারের থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়। তাতে কয়েকজন সরকারি আধিকারিক এবং প্রভাবশালীর নাম থাকার কথা জানা গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান কি না, তা স্পষ্ট নয়। বলে রাখা প্রয়োজন, এদিনই টুলু মন্ডলের শ্যালক মিঠু শেখের বিলাস বহুল বাড়িতেও তল্লাশি চালান পুলিশ আধিকারিকরা। বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন খাসপাড়ায় মিঠু শেখের বিলাসবহুল বাড়ি ঘিরে চলে পুলিশের তল্লাশি অভিযান। প্রায় ১০ কাঠা জমির উপর তৈরি বাড়ি। যদিও দীর্ঘ তল্লাশিতে সেখানে তেমন কিছু উদ্ধার হয়নি বলেই খবর।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
