বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, কাদা জল, দীর্ঘক্ষণ ভেজা জুতো-মোজা পরে থাকা, সামান্য কাটাছেঁড়া সব মিলিয়ে এই সময় পায়ের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। আর ডায়াবেটিস থাকলে সেই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ, রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ক্ষত শুকোতেও সময় লাগে।
ফলে যে ক্ষত কয়েক দিনে সেরে যাওয়ার কথা, সেটিই ধীরে ধীরে আলসারে পরিণত হতে পারে। সংক্রমণ হাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে অস্ত্রোপচার, এমনকী পা কেটে ফেলতেও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের কথায়, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ, অনেকেরই পায়ের স্নায়ুর অনুভূতি কমে যায়। ফলে কাঁটা ফুটলে, ফোসকা পড়লে বা কোথাও কেটে গেলেও তা সহজে টের পান না। ততক্ষণে ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:

বর্ষায় কেন এত সতর্ক থাকতে হবে?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকলে পায়ের ত্বক নরম হয়ে যায়। সেই সুযোগে কাটার জায়গা দিয়েই ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক শরীরে প্রবেশ করে। কাদা বা নোংরা জলে হাঁটলে সেই ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই এই সময় পায়ের সামান্য সমস্যাকেও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি বিপদ ডেকে আনে
ডায়াবেটিস রোগীদের অনেকেই অজান্তেই এমন কিছু ভুল করেন, যা বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন-
- বাড়ির ভেতর খালি পায়ে হাঁটা
- ভেজা জুতো বা মোজা দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা
- ছোট কাটা, ফোসকা, ফাটা গোড়ালি বা কড়াকে গুরুত্ব না দেওয়া
- প্রতিদিন পা পরীক্ষা না করা
- রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না রাখা

এই লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না
এ রকম কোনও লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- পা লাল হয়ে যাওয়া বা ফুলে যাওয়া
- ক্ষতের চারপাশ গরম হয়ে থাকা
- ত্বকের রং বদলে যাওয়া
- ঘা বা আলসার
- ক্ষত থেকে পুঁজ বা দুর্গন্ধ বের হওয়া
- দীর্ঘদিনেও ক্ষত না শুকনো
- ক্ষতের সঙ্গে জ্বর বা তীব্র ব্যথা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লক্ষণগুলি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসায় দেরি হলে সংক্রমণ হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং তখন অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, কিডনির অসুখ, পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যা বা আগে ডায়াবেটিক ফুট আলসারের ইতিহাস থাকলে বিশেষ সতর্কতা জরুরি।

কীভাবে বাঁচবেন এই বিপদ থেকে?
প্রতিদিন ঈষদুষ্ণ জল ও মৃদু সাবান দিয়ে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁকে যেন জল না থাকে। ত্বক ফেটে যাওয়া রুখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, তবে আঙুলের ফাঁকে নয়।
সবসময় নরম, আরামদায়ক ও ঢাকা জুতো পরুন। পরিষ্কার ও শুকনো মোজা ব্যবহার করুন। মোজা ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলুন। অন্তত দু বা তিন জোড়া জুতো পালা করে ব্যবহার করুন, যাতে প্রতিটি জুতো সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া যায়।
প্রতিদিন পায়ের তলা, গোড়ালি ও আঙুলের ফাঁক ভালো করে পরীক্ষা করুন। নিজে দেখতে অসুবিধা হলে আয়না বা পরিবারের কারও সাহায্য নিন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিক ফুটের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
মনে রাখবেন, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে পায়ের ছোট ক্ষতকে অবহেলা নয়। বর্ষাকালে পায়ের প্রতি একটু বেশি যত্নই ভবিষ্যতের বড় বিপদ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
