বর্তমানে সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়ংকর প্রভাব। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে এই অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না কেউই। পারিবারিক অনুশাসন, মূল্যবোধের অভাব যেমন বড় একটি কারণ, তেমনই প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ভালো-মন্দ বিচারের অক্ষমতাও ধীরে ধীরে সমাজকে তলানিতে পৌঁছে দিচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মানবিকতা-শ্রদ্ধা, সহনশীলতা-ভালোবাসা। বাড়ছে অপরাধ, দুর্নীতি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা।
সততা, পরোপকার ও শ্রদ্ধাবোধের মতো মৌলিক মানবিক গুণাবলির চর্চা কমে গিয়েছে। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
আরও পড়ুন:
যান্ত্রিক জীবন ও ব্যস্ততার কারণে মা-বাবা সন্তানকে সময় দিতে পারছে না। নিউক্লিয়ার পরিবারে মূল্যবোধ ও অনুশাসন ছাড়াই বড় হয়ে উঠছে শিশু। সময় দিতে না পেরে বাবা-মা
সন্তানের অনেক আবদারে অবাধ প্রশ্রয় দিচ্ছে ক্ষতিপূরণ হিসাবে। হাতে তুলে দিচ্ছে দামি মোবাইল, পর্যাপ্ত অর্থ। এসবের অপব্যবহার হচ্ছে কি না, খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছে না। ইন্টারনেট, সোশাল মিডিয়ার অবাধ ব্যবহারের ফলে অনেক সময় তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হচ্ছে। বিলাস ও অর্থ উপার্জনের অন্ধ প্রতিযোগিতা মানুষকে নৈতিকতার পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। সততা, পরোপকার ও শ্রদ্ধাবোধের মতো মৌলিক মানবিক গুণাবলির চর্চা কমে গিয়েছে। বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা।
প্রযুক্তির কারণে এক ঘরের বাসিন্দা হয়েও মানুষ পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন, দূর গ্রহের। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অনেকটাই ক্ষীণ।
এমনই মারাত্মক ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে জয়পুরে। সরকারি চাকরি, বিপুল সম্পত্তি হাতাতে জন্মদাত্রী মাকেই ‘সুপারি কিলার’ নিয়োগ করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে ২৩ বছরের তরুণী। সরকারি চাকুরে বাবার মৃত্যুর পরে চাকরি পেয়েছেন মা। সম্পত্তিও তাঁর দখলে। তাই মাকে খুনের ছক কষে দুর্ঘটনা বলে চালানোর পরিকল্পনা করে তাঁর একমাত্র কন্যা। ‘সুপারি কিলার’ ভাড়া করে মাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়, আর ঘটনাকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা চলে। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। অভিযুক্ত আয়ুষি এবং ষড়যন্ত্রে
যুক্ত আত্মীয়-সহ খুনিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোনও মেয়ে যে এমন নির্মম পরিকল্পনা করতে পারে, তা মেনে নিতে পারছেন না আত্মীয়-প্রতিবেশীরা।
ঘটনাটি মর্মান্তিক, সন্দেহ নেই। কিন্তু যেভাবে সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিক অধঃপতন বেড়েছে, তাতে এটিকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে চালানোর উপায় নেই। অবক্ষয় ডালপালা মেললে অন্যায়-অপরাধ বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। প্রযুক্তির কারণে এক ঘরের বাসিন্দা হয়েও মানুষ পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন, দূর গ্রহের। পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অনেকটাই ক্ষীণ। বিশাল পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোয়। কিন্তু কাছের মানুষ অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। পুরনো সম্পর্কে আসছে যান্ত্রিকতা, নতুন সম্পর্কের ভিতও নড়বড়ে। কারও উপর ভরসা নেই। নিজের জীবন নিজেকেই ৫০০ গুছিয়ে নিতে হবে। সেজন্য স্বার্থপর হতে হবে। সবাইকে দাবিয়ে-পিষে এগতে হবে। তারই ভয়াবহ পরিণতি জয়পুরের আয়ুষি শর্মা। এমন অনেক ঘটনাই এখন ভবিষ্যতের গর্ভে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
