সন্ধক লবণকে হার্টের বন্ধু ভাবছেন? এই ভুলেই ঘটতে পারে বিপদ

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


সাদা নুনের বদলে সন্ধব লবণ বা রক সল্ট ব্যবহার করলেই হার্ট ভালো থাকবে, রক্তচাপ কমবে, এমন ধারণা এখন বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু নুনের ধরন বদলালেই কি বদলায় হৃদস্পন্দন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসল বিষয় নুনের রং নয়, শরীরে ঢোকা মোট সোডিয়ামের পরিমাণ।

মূল উপাদান একই
পরিশোধিত সাদা নুন মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড। আমাদের দেশে সাধারণ খাবার নুনে আয়োডিনও যোগ করা হয়, যা থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে সন্ধব লবণ তুলনামূলক কম প্রক্রিয়াজাত। এতে সামান্য পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম ও আয়রন থাকতে পারে। তবে এর প্রধান উপাদানও সোডিয়াম ক্লোরাইড।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসকদের কথায়, রক সল্ট বা পিঙ্ক সল্টকে সম্পূর্ণ আলাদা রাসায়নিক যৌগ ভাবার কারণ নেই। শরীর মূলত এগুলিকেও সোডিয়াম ক্লোরাইড হিসেবেই প্রক্রিয়াজাত করে। ফলে সোডিয়ামের পরিমাণের ক্ষেত্রে হার্ট বা কিডনির কাছে নুনের ধরন খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

আরও পড়ুন:

rock salt vs white salt heart rate blood pressure
সোডিয়াম ক্লোরাইডের পাশাপাশি আছে আয়োডিন। ছবি: সংগৃহীত

বেশি নুনে চাপ হার্টে
অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে জল ধরে রাখতে পারে। এতে রক্তের পরিমাণ বাড়ে এবং রক্তনালির দেওয়ালে চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন বেশি সোডিয়াম খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করে রক্ত পাম্প করতে হয় এবং দীর্ঘদিন এমনটা চলতে থাকলে হার্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বদলালেই কমবে না পালস
সাদা নুনের বদলে সন্ধব লবণ ব্যবহার করলেই বিশ্রাম অবস্থার হার্ট রেট কমবে, এমন প্রমাণ নেই। বরং সন্ধব লবণকে ‘নিরাপদ’ ভেবে বেশি ব্যবহার করলে মোট সোডিয়াম গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, স্যালাড, ফল বা রান্না করা খাবারে বেশি করে রক সল্ট ব্যবহার করলেও সোডিয়ামের পরিমাণ কমে না। অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ ও কিডনির সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তাই নুন গ্রহণে দরকার বাড়তি সতর্কতা।

rock salt vs white salt heart rate blood pressure
অতিরিক্ততে বিপদ। ছবি: সংগৃহীত

আয়োডিনের কথাও ভাবুন
সন্ধক লবণে সাধারণত আয়োডিন থাকে না। তাই আয়োডিনযুক্ত সাদা নুন পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আয়োডিনের ঘাটতিতে থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে, যার প্রভাব হৃদস্পন্দনের উপরও পড়তে পারে।

হার্ট রেট নিয়ন্ত্রণে তাই নুনের ধরন বদলের চেয়ে মোট নুন কমানো বেশি জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) পরামর্শ, সব ধরনের নুন মিলিয়ে দিনে ৫ গ্রামের কম গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্রসেসড মাংস, রেডিমেড সসের মতো সোডিয়ামসমৃদ্ধ খাবার কমাতে হবে।

নিয়মিত হাঁটা বা অন্য কার্ডিও ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমও বিশ্রাম অবস্থার হার্ট রেট স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্রাম অবস্থায় হার্ট রেট নিয়মিত ১০০ বিট প্রতি মিনিটের বেশি থাকলে, অথবা বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *