বিমানে নয়, প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে কাজে যোগ দিতে গেলেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শুক্রবার তিনি পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে সড়কপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকার দূতাবাসে পৌঁছন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের ৫৫ বছরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় হাইকমিশনার সড়কপথে পাড়ি দিয়ে রাজধানী ঢাকার কর্মস্থলে যোগ দিলেন। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ও তাঁর সহধর্মিণী মিসেস মিনাল ত্রিবেদী বাংলাদেশে পৌঁছন। বেনাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস এবং বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি চিফ অফ প্রোটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ উপস্থিত থেকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও উন্নয়ন করা। আমরা সবাই ভাইবোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতার। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাইবোন ও মা – তাঁদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
আরও পড়ুন:
ঢাকা পৌঁছে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘‘আমাদের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি। তার সাথে ২০ কোটি যোগ করেছি – ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদা ভাবে ভাবছি না। আমার মনে হচ্ছে যে আমি বাংলাদেশি। দেখছেন না, আমি হেঁটে চলে আসছি। একই আকাশ, একই বাতাস। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করব। শুধু অভিন্ন সীমান্তই নয়, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
হাইকমিশনার হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক আরও উন্নয়ন করা। আমরা সবাই ভাইবোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতার। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাইবোন ও মা – তাঁদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
গত এপ্রিলে ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা, বছর পঁচাত্তরের দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালেন দিল্লি। বাংলাভাষী দীনেশ ত্রিবেদী শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কেই নন, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কেও সম্যক অবহিত। কংগ্রেস, জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দীনেশ ত্রিবেদীর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
