সই জাল কাণ্ডে রবিবার দ্বিতীয়বার সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। সূত্রের খবর, বারবার বয়ান বদল করেছেন অভিষেক। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হলে সাংসদের বয়ানে একাধিক অসংগতি মিলেছে। অর্থাৎ এদিনের ম্যারাথন জেরায় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা সন্তুষ্ট নন। ফলত তাঁরা ফের তৃণমূল সাংসদকে ডাকার পরিকল্পনা করছেন বলেই খবর।
সই জাল কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই সিআইডির স্ক্যানারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর তিনবার তলব এড়িয়ে যান বিভিন্নরকম অজুহাত দেখিয়ে। অবশেষে হাই কোর্টের ধমক খেয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে একপ্রকার বাধ্য হন তিনি। যদিও হাই কোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে তবেই ভবানী ভবন গিয়েছেন অভিষেক। জানা গিয়েছিল, প্রথমদিনের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের জবাব ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। রবিবার দ্বিতীয়দফায় সাড়ে আটঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। এদিন সই কাণ্ডে তলব করা হয়েছিল কুণাল ঘোষকেও। দু’জনকেই আলাদা করে প্রশ্ন করা হয়। পরবর্তীতে বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, প্রথমে অভিষেক যা উত্তর দিয়েছেন, কুণাল ঘোষের উপস্থিতিতে তা বদলে ফেলেছেন। এমনটা ঘটেছে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের ক্ষেত্রে। পরবর্তীতে আধিকারিকরা তাঁকে বয়ান বদল নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনও সুদুত্তর দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন:
অভিষেকের এই বারবার বয়ান বদলে অসন্তুষ্ট সিআইডি আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, সই জাল কাণ্ডের জট খুলতে ফের অভিষেককে তলব করতে চলেছে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা। যদিও তা কবে, জানা যায়নি। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে একাধিক মামলার চাপে নাস্তানাবুদ অবস্থা অভিষেকের। আগামিকাল অর্থাৎ সোমবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কথা তাঁর। মঙ্গলে ডিজে মন্তব্য মামলায় ফের সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কথা অভিষেকের। তবে শুধু সই জাল কাণ্ড, ডিজে মন্তব্য বা নিয়োগ দুর্নীতি নয়, এই মুহূর্তে অভিষেকের বিরুদ্ধে কার্যত মামলার পাহাড়। কয়লা পাচারে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত তিনি। শনিবার আমফানের ত্রাণে ২৫০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। শাহের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করায় এফআইআর হয়েছে শিলিগুড়ির থানায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
